Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

জমি বিক্রিতে অধিক উৎসে কর

রংপুর সিটির নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বিপাকে

বিয়ে-চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পারছেন না

Icon

মাহবুব রহমান, রংপুর

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর সিটির নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বিপাকে

জমি বিক্রিতে অধিক উৎসে কর আরোপের ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেকায়দায় পড়েছে। এ কারণে অনেকেই আর্থিক সংকটের সময় জমি বিক্রি না হওয়ায় সন্তানের বিয়ে ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ জমি ক্রেতার হার ৭০ ভাগ কমে গেছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী বিষয়টি বিবেচনার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ইতোমধ্যে আবেদন জানিয়েছেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় জমি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দলিল নিবন্ধন কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী বলেন, সিটি করপোরেশনে নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭৯টি মৌজাকে পূর্ণাঙ্গ নগরায়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমির হস্তান্তর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভূমি উৎস কর শতকপ্রতি সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকার আওতামুক্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি লিখেছেন। তিনি বলেন, রংপুর মূলত কৃষি অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। কোনো ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা নেই। জমির ফসল বিক্রি করে এ অঞ্চলের মানুষ পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন। এ কারণে তাদের হাতে মজুত অর্থ থাকে না। তাই নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানের বিয়ে কিংবা পরিবারের কোনো বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ের জন্য জমি বিক্রি করে তা পূরণ করেন। কিন্তু জমি বিক্রির উৎসে করের এই বিপুল রাজস্বের টাকা পরিশোধ করার পর জমি বিক্রির টাকার অঙ্ক যৎসামান্য থাকে। তাই জমি বিক্রি এবং ক্রেতাও কমে গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৫ জুলাই জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘চ’ শ্রেণির জমি হস্তান্তর/বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতি শতাংশ জমির বিক্রয়মূল্যের ৩ শতাংশ অথবা সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা, যা অধিক, উৎসে কর হিসাবে আদায়ের বিধান কার্যকর করেছে। তিনি বলেন, পূর্বের এনবিআর চেয়ারম্যানের সময়ে যে গেজেট হয়েছে তা অমানবিক এবং বাস্তবসম্মত নয়। আশা করি নতুন চেয়ারম্যান এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। রংপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠাকালে ১৫টি ওয়ার্ডের আওতায় মোট ৩৬টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে আরও ৭৯টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সিটি করপোরেশনের এসব এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী বলেন, উল্লিখিত ৭৯টি মৌজার অধিকাংশ এখনো কৃষিনির্ভর, গ্রামীণ ও সীমিত অবকাঠামোগত সুবিধাসম্পন্ন এলাকা হিসাবে বিদ্যমান। এসব এলাকায় ভূমির বাজারমূল্য শতাংশপ্রতি ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। গ্রামীণ পরিবেশ ও অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে সিটি করপোরেশন এসব এলাকা থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি শতাংশে ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা উৎসে কর আরোপ ভূমির প্রকৃত বাজারমূল্য, স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং কর প্রদানের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .