খুলনার ভৈরব সেতু নির্মাণ
পাঁচ বছরে অগ্রগতি ২০ শতাংশ
বাতিল হচ্ছে চুক্তি: বাড়ছে ব্যয়, নকশায়ও আসছে পরিবর্তন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জমি অধিগ্রহণ জটিলতাসহ নানা কারণে খুলনার বহুল আলোচিত ভৈরব সেতু নির্মাণের অগ্রগতি থমকে আছে। চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও পাঁচ বছরে মাত্র ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ চুক্তি বাতিলের সুপারিশ পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে নদীর নাব্য ও প্রবাহ ঠিক রাখতে নকশায় তিনটি বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
খুলনা শহর থেকে দিঘলিয়া উপজেলায় প্রবেশের সহজ যোগাযোগের কথা চিন্তা করে দৌলতপুরের মহসিন মোড় থেকে সেতুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর একনেক সভায় ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ পর্যন্ত সার্বিক কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৬০ কোটি টাকা বিল তুলে নিয়েছে।
নির্মাণকাজে চরম ধীরগতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষ। বাসিন্দা বাবুল বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় পার হলেও ১৭টি পিলার স্থাপন ছাড়া কিছুই হয়নি। বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় সেতুটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারের গাফিলতিতে এটি ঝুলে গেছে। এ বিষয়ে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের জিএম হেদায়েত উল্লাহ যুগান্তরকে জানান, চুক্তি বাতিলের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। কিছু কাজ চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক যুগান্তরকে বলেন, কাজের সন্তোষজনক অগ্রগতি না থাকায় ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। নদীর নাব্য রক্ষায় স্টিলের সেতুসহ নকশায় প্রধান তিনটি পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে।

