Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

পাঁচ মাসে পূর্বাঞ্চল রেলে ৬২ হামলা, যাত্রীদের উদ্বেগ

বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের

Icon

তাবারক উল্লাহ কায়েস, কুমিল্লা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচ মাসে পূর্বাঞ্চল রেলে ৬২ হামলা, যাত্রীদের উদ্বেগ

নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস। কুমিল্লার রাজাপুর স্টেশন অতিক্রম করতেই হঠাৎ বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে ছুটে আসে একটি পাথর। মুহূর্তেই এর আঘাতে মাথায় জখম হয়ে ট্রেনের ভেতর লুটিয়ে পড়েন পঞ্চাশোর্ধ্ব যাত্রী মহিউদ্দিন। বগিতে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। রেলকর্মীরা দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধে ব্যবস্থা নেন। পরে নোয়াখালী পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

৩০ জুলাই রাতে উপকূলে পাথর ছোড়ার ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম, লাকসাম-নোয়াখালী ও লাকসাম-চাঁদপুরসহ পূর্বাঞ্চল রেলের বিভিন্ন রুটে চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে একের পর এক পাথর ছুড়ছে দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই ভেঙে যাচ্ছে ট্রেনের জানালার কাচ। হঠাৎ ছুটে আসা পাথরের আঘাতে আহত হচ্ছেন নানা বয়সি যাত্রী। কারও মাথা, কারও চোখ, নাক কিংবা কানে লাগছে গুরুতর আঘাত। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। ফলে দেশের একমাত্র নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহণ হিসাবে পরিচিত ট্রেনে যাতায়াতেও এখন বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলন্ত ট্রেনে ৬২টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রুটেই ঘটেছে ৩৭টি ঘটনা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ১৯টি, লাকসাম-নোয়াখালী রুটে ৪টি এবং লাকসাম-চাঁদপুর রুটে ঘটেছে ২টি ঘটনা। প্রতিটি ঘটনায় ভেঙেছে ট্রেনের জানালার কাচ। পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন জানালার পাশে বসা ব্যক্তি ও আশপাশের যাত্রীরা। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পাথর নিক্ষেপের এমন ঘটনায় আতঙ্কিত যাত্রীরা বলছেন, নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ট্রেনে উঠলেও কখন কোথা থেকে পাথর এসে আঘাত করবে, সেই ভয় এখন তাড়া করে বেড়ায়। সড়কপথে যাতায়াতে ভোগান্তি এড়াতে প্রথম পছন্দ ট্রেনকেই বেছে নিচ্ছেন তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহণে যাতায়াতে আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে। রেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোর, মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের একটি অংশ জড়িত। তবে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি রেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাই যাত্রীদের প্রশ্ন, এতগুলো ঘটনা ঘটার পরও অপরাধীদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না কেন? রেললাইনের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে না কেন বলেও প্রশ্ন রাখেন তারা। এদিকে পাথর নিক্ষেপের প্রবণতা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বাড়ছে দাবি করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী লাকসাম আরএনবির ওসি নুর মোহাম্মদ বলেন, টহল বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত, আটক কিংবা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে রেলওয়ে পুলিশ জিআরপির কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান রেলওয়ে পুলিশ চট্টগ্রামের সুপার তহুরা জান্নাত। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। রেললাইনের পাশের বসতিগুলোতে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .