Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

আলোচনায় উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী

ফকিরহাটে সাড়া ফেলেছে খেজুর বীজের কফি

Icon

আবুল আহসান টিটু, ফকিরহাট (বাগেরহাট)

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফকিরহাটে সাড়া ফেলেছে খেজুর বীজের কফি

দেশি খেজুর খাওয়ার পর বিচি যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়। সেই বীজ দিয়েই বিশেষ প্রক্রিয়ায় কফি এবং তা থেকে পানীয় তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন পল্লিচিকিৎসক ও উদ্যোক্তা হাওলাদার মোহাম্মদ আলী। এই পানীয়র নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেট সিড কফি’। শুধু কফি বিক্রি নয়, ইতোমধ্যে তার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

মোহাম্মদ আলীর দাবি, স্থানীয়ভাবে তার তৈরি কফির চাহিদাও বাড়ছে। ফকিরহাট উপজেলা সংলগ্ন বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী ও তার নিয়োগ করা শ্রমিকরা গ্রাম থেকে খেজুরের কাঁদি সংগ্রহ করে বীজ উৎপাদনের জন্য প্রক্রিয়াজাত করছেন।

মোহাম্মদ আলী জানান, ইউটিউবে সৌদি আরবে খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরির একটি ভিডিও দেখে তার মাথায় এ ধারণা আসে। ‘সৌদি আরবে যদি খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরি করা যায়, তাহলে আমরা কেন পারব না’-এ চিন্তা থেকেই তিনি নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। পরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করেন। তার দাবি, বাগেরহাট জেলায় তিনিই প্রথম খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরি করছেন।

উদ্যোক্তা জানান, খেজুরের মৌসুমেই মূলত এ কফি তৈরি করা হয়। খেজুরের কাঁদিপ্রতি ২০ টাকা দরে কিনে তা থেকে বিচি সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর বিচিগুলো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়ানো হয়। পরে রোদে শুকিয়ে কড়াইয়ে উত্তপ্ত বালুতে ভেজে নেওয়া হয়। সবশেষে মেশিন বা ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে তৈরি করা হয় কফি। তার দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।

মোহাম্মদ আলীর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের প্রত্যেককে দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। শ্রমিকরা বিচি সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার কাজ করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার কফি বিক্রি হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা। এবারই নতুন শুরু হলেও প্রতিদিনই স্থানীয় লোকজন তার তৈরি কফি কিনতে আসছেন। মোহাম্মদ আলীর প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে, তা জানা গেল স্থানীয় বাসিন্দা বাদশার কথায়। তিনি বলেন, ‘প্রথমে বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছিলাম। পরে খেজুরের বিচির কফি পান করে দেখেছি। এর স্বাদ ও ঘ্রাণ ভালো। এলাকার মানুষও আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। এটি বাগেরহাটের জন্য একটি নতুন উদ্যোগ।’

৭০ বছর বয়সি নূর ইসলাম বলেন, এ ধরনের কফি তার বয়সে আগে কখনো পান করেননি। তবে এই কফি শারীরিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খেজুরের মৌসুমে এখানে কাজ করে আয় করতে পারছি। কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।’

মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে ছোট পরিসরে উৎপাদন করছেন তিনি। ভবিষ্যতে অনলাইনে বাজারজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশেও এ পণ্য পৌঁছে দিতে চান। এজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, এটি একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। উদ্যোক্তাকে কারিগরি ও অর্থ সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .