Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

সাঁড়াশি অভিযানেও থেমে নেই পাচার

অ্যাম্বুলেন্স ও কুরিয়ারে কুমিল্লা থেকে মাদক আসছে ঢাকায়

ভারত সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের অন্যতম প্রধান ‘ট্রানজিট রুট’ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে কারবারিরা

আবুল খায়ের

আবুল খায়ের

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাম্বুলেন্স ও কুরিয়ারে কুমিল্লা থেকে মাদক আসছে ঢাকায়

কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মুখেও থেমে নেই মাদক পাচার। এ কাজে পথ ও কৌশল বদলেছে পাচারকারী চক্র। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকায় মাদক সরবরাহে এখন ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস। সম্প্রতি র‌্যাব-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বেশ কয়েকটি অভিযানে এই অভিনব পাচার কৌশল ধরা পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এতে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। ভারত সীমান্তসংলগ্ন জেলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই কুমিল্লাকে মাদকের অন্যতম প্রধান ‘ট্রানজিট রুট’ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে কারবারিরা। আগে যাত্রীবাহী বাস কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকে মাদক পাচার হতো বেশি, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার হওয়ায় বেছে নেওয়া হয়েছে ঝুঁকিমুক্ত মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে জরুরি সেবার ছদ্মবেশে অ্যাম্বুলেন্সের অপব্যবহার করা হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহণের বাহন হওয়ায় সড়কে সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স তল্লাশি এড়িয়ে চালানো যায়। এ সুবিধার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। লোক দেখানো ‘জরুরি রোগী’ সাজিয়ে বা ফাঁকা অ্যাম্বুলেন্সে করে ফেয়ারড্রিল, স্কার্ফ, গাঁজা ও ইয়াবার চালান পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বিসমিল্লাহ অ্যাম্বুলেন্সসহ বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করেছে র‌্যাব ও জেলা পুলিশ। জরুরি সেবার এসব যানবাহন থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ফেনসিডিল, ফেয়ারড্রিল দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধারসহ একাধিক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। এক সপ্তাহ আগে দাউদকান্দি থানা পুলিশ একটি রোগীবাহী মাইক্রোবাস থেকে কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানায়, জরুরি সাইরেন বাজিয়ে দ্রুতগতির সুযোগ নিয়ে এসব অ্যাম্বুলেন্স চেকপোস্ট পার হয়ে যায়। সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছাড়া এসব যানবাহন আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। সূত্র জানায়, দেশীয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। পোশাক, ইলেকট্রনিক্স বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভুয়া কায়িক বিবরণ দিয়ে বুকিং দেওয়া হচ্ছে পার্সেল। সম্প্রতি কুমিল্লার বিভিন্ন পার্সেল কাউন্টার এবং কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের চালান জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এরই মাঝে কুমিল্লায় রেডক্স কোরিয়ার সার্ভিস ও নাজিরা বাজার এলাকায় জননী কোরিয়ার সার্ভিস থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নওগাঁ ও ঢাকায় মাদক পাচারকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক পাচার চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেলের গায়ে ভুয়া প্রেরক-প্রাপকের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করায় অনেক সময় মূল কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, নগরীর বেশ কিছু সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সচালক মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েছেন। সুস্থ মানুষকে রোগী সাজিয়ে সিটে শুইয়ে মাদকসহ দ্রুত ঢাকায় চলে যাচ্ছে। তাছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসে ব্যাপক হারে মাদক পাচার হচ্ছে।

কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মাদক কারবারিরা যত অভিনব কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, পুলিশ তা নস্যাৎ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স ও কুরিয়ার সার্ভিসের মতো সেবামূলক খাতকে যারা মাদক পাচারে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .