ভোটার তালিকায় নাম কর্তন
‘জীবিত’ হতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ৮৬ বছরের নজরুল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী নজরুল ইসলামের বয়স ৮৬ বছর। যশোরের ঝিকরগাছার বল্ল গ্রামের বাসিন্দা নজরুল এখন জাতীয় নাগরিক পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারে মৃত (ডেড স্ট্যাটাস)। ২০২৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাকে ‘মৃত দেখিয়ে’ নাম কর্তন করা হয়েছে। এ বছর জুলাই মাসে পেনশন ভাতার ভেরিফিকেশনের সময় তিনি জানতে পারেন ভোটার তালিকায় ‘মৃত’। এখন তিনি নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে নির্বাচন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
নজরুল ইসলাম জানান, ২৩ জুলাই ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে জানতে পারি, আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ডেড স্ট্যাটাস (মৃত) করা হয়েছে। ওইদিনই আমি স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য আবেদন করি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অধিদপ্তর বরাবর একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। কিন্তু সেই আবেদনের অগ্রগতি না হওয়ায় সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি ২০২৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির একটি প্রত্যয়নের মাধ্যমে আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। আমার মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর। আমার নাম কর্তনের জন্য আবেদনকারী দেখানো হয়েছে ইউপি সদস্য হামিদা খাতুনকে। প্রত্যয়নপত্রে তিনি আমাকে তার ভাই দাবি করেছেন। অথচ তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই।
নজরুল ইসলামের ছেলে আজহারুল ইসলাম মিথুন বলেন, একজন মানুষ জীবিত থাকার পরেও মিথ্যা প্রত্যয়নে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এতে আমরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিস ও কমিশনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কবে সংশোধন হবে নিশ্চিত নই। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ইউপি মহিলা মেম্বার হামিদা খাতুন ও প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহকারী ও শিওরদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেন বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় মহল্লার কেউ আমাকে জানায় নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে মহিলা মেম্বার হামিদা খাতুনের নামে আবেদন দেখিয়ে স্বাক্ষর নিই। গতকাল জানতে পারলাম তিনি জীবিত আছেন। এটা আমাদের ভুল হয়েছে।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইমরান হোসাইন বলেন, একজন কর্তনকৃত ভোটারের ডেড স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন পেয়েছি। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৃত্যুর মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র দিয়ে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করা হলে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

