একজন আদর্শ মানুষ রাষ্ট্রপতি হলেন
Advertisement
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৬৩ সালে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় এবং আমাদের সখ্য গড়ে ওঠা। আমরা দুজনই ছিলাম সহপাঠী। একসঙ্গে ছাত্ররাজনীতি ও বামপন্থি রাজনীতি করেছি। এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। সার্বিকভাবে বলব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সংবেদনশীল, ভদ্র, অমায়িক ও জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি ভালো ছাত্র ছিলেন, শিক্ষকতা করেছেন।
তাকে নিয়ে বলতে গেলে দুইভাবে বলতে হবে। একজন মানুষ হিসাবে এবং একজন রাজনীতিক হিসেবে। মানুষ হিসাবে তিনি ‘আনপ্যারালাল’। সর্বদিক থেকে একজন আদর্শবান মানুষ। আমি বলব, খাঁটি এবং সোনার মানুষ। পরিবার, আত্মীয়স্বজন-তিনি সবার প্রিয়। অত্যন্ত বন্ধুবৎসল আর আড্ডাবাজ। সেদিক থেকে তিনি অতুলনীয়। গত পরশুদিনও আমরা একসঙ্গে ছিলাম, কথা বলেছি।
আর রাজনীতিক হিসাবে বলতে গেলে, ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়েই আমাদের সখ্য হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান সময়েও রাজনীতি করেছেন। মোস্তফা জামাল হায়দার, মান্নান ভূঁইয়া, ড. মাহবুব উল্লাহ্ আমাদের নেতা ছিলেন সেই সময়। আমি এবং আলমগীর তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি। ছাত্ররাজনীতির সময়েও তিনি ভালো করেছেন। পরবর্তী সময়ে আলমগীর শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবনকালীন প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ না করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারী এটির একান্ত সচিব হয়েছিলেন।
এরপর বিএনপির সঙ্গে এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। পারিবারিকভাবেও একটি ভালো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল তাদের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন অত্যন্ত সম্ভান্ত্র ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এমপি এবং মন্ত্রী ছিলেন বহুদিন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামের যাত্রা আরও বিস্তৃত হয়। তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং ধীরে ধীরে দলের মহাসচিব হন। গত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তার যে ত্যাগ, কর্ম ও ভূমিকা, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে তার সঙ্গে আমারও যোগাযোগ ছিল।
আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দেশের প্রতি তার নিবেদন। বাংলাদেশকে তিনি ভালোবাসেন। দেশের জন্য তার যে ডেডিকেশন, সেটি বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাননি। দেশের বাইরে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেননি; বরং দেশে থেকেই দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। দেশের প্রতি তার এই নিবেদন ও দায়িত্ববোধকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রের জন্য এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যিনি একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো রাজনীতিক এবং স্বচ্ছ চরিত্রের অধিকারী। এমন একজন আদর্শবান মানুষ যদি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তার গুণাবলি, মূল্যবোধ এবং কথা সমাজের সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এটি মানুষের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি সরাসরি রাজনীতি করবেন না। কিন্তু রাষ্ট্রীয় জীবন ও সামাজিক জীবনে তার প্রভাব থাকবে। একজন ভালো মানুষ, ভালো রাজনীতিক এবং স্বচ্ছ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকলে সেটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করি।
আরও মনে করি, জীবনের শেষদিকে এসে দেশের জন্য কাজ করার এ সুযোগ তার একটি বড় অর্জন। বাংলাদেশকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা, সততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কাজে লাগতে পারে। একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে তিনি দেশের জন্য কাজ করবেন, এটাই কাম্য।
অনুলিখন : হক ফারুক আহমেদ
