কুমিল্লায় অর্ধেক বিদ্যুৎ খাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
অধিকাংশ গ্যারেজে চোরাই সংযোগ * নেপথ্যে অসাধু সিন্ডিকেট
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় বরাদ্দের অর্ধেক বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে দেড় লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। মহানগরসহ ১৮টি উপজেলায় এসব অটোরিকশা বৈদ্যুতিক চার্জের ওপর নির্ভরশীল। নিয়মনীতি না মেনে চোরাই সংযোগ, আবাসিক সংযোগ, পার্শ্ব সংযোগসহ নানা অসদোপায়ে বিদ্যুতের অপব্যবহারও করছে এসব থ্রি হুইলার। এতে গ্রাহকরা আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এদিকে অটোরিকশার গ্যারেজে বিদ্যুতের চোরাই সংযোগের নেপথ্যে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির অসাধু সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগরী এবং ১৮টি উপজেলায় সরবরাহের তুলনায় বিদ্যুতের অনেক ঘাটতি রয়েছে। ফলে লোডশেডিং প্রকট হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবামূলক কর্মকাণ্ড। চট্টগ্রাম জেলায় প্রতিদিন চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজগুলো। এতে রাতে আবাসিক গ্রাহকরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাণিজ্যিক হারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে আবাসিক সংযোগ ও অবৈধ লাইনের মাধ্যমে বহু থ্রি হুইলারে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। যার নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সূত্র জানায়, কুমিল্লায় পিডিবি গ্রাহকদের বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৯১৩ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের চাহিদা সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট। বিপুল এই চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অটোরিকশার দৈনিক চার্জিংয়ে মোট সরবরাহের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে বাসা-বাড়ি, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি কাজে বিদ্যুৎ না পেয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা বাণিজ্যিক চার্জিং পয়েন্টে বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করার কথা। তবে সরেজমিন ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, জেলার অসংখ্য চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে আবাসিক সংযোগ থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। আবাসিক লাইনের বিদ্যুৎ তুলনামূলক কম দরে বাণিজ্যিক কাজে চালানোর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মচারীদের মাসোয়ারা দিয়ে এসব অবৈধ চার্জিং স্টেশন ও ঝুলন্ত অবৈধ লাইন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বহুলাংশে বেড়েছে, এটা সত্য। আমরা সব চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

