Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ

চট্টগ্রাম বন্দরে হচ্ছে নতুন যুগের সূচনা

বছরে ৮ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়বে * একযোগে ৬ হাজার কনটেইনার নিয়ে ভিড়তে পারবে জাহাজ

Advertisement

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দরে হচ্ছে নতুন যুগের সূচনা

Advertisement

লালদিয়ার চরে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার চরে এই কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করবে। আজ এ টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর (গ্রাউন্ড ব্রেকিং) স্থাপন করা হবে। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব রেয়ায়েত হামিম যুগান্তরকে বলেন, শতভাগ বেসরকারি বিনিয়োগে সবচেয়ে বৃহৎ এই টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়বে। বছরে এই টার্মিনালে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে। একযোগে ৬ হাজার কনটেইনার নিয়ে লালদিয়ার চরে ভিড়তে পারবে জাহাজ। আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি থাকবে এই টার্মিনালে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান।

কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরের ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ৩২ একর এলাকায় মূল টার্মিনাল, ৭ দশমিক ১৫ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড, ১০ একর জায়গায় ট্রাক পার্কিং ও প্রি গেট সুবিধা থাকবে। নতুন করে পুরো অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এটি হবে একটি গ্রিন ফিল্ড প্রকল্প। নকশা অনুযায়ী লালদিয়া টার্মিনালে থাকবে ৭টি শিপ টু শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজি) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর ও ৬১৩ মিটার দৈর্ঘের কনটেইনার জেটি। এই টার্মিনালে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। একযোগে প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে।

২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০২৩ সালে প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএম টার্মিনালসের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির মেয়াদ ধরা হয় ৩৩ বছর। এই টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালস বিনিয়োগ করবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ৮ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত প্রতিটি কনটেইনার হ্যান্ডলিং-এ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১ মার্কিন ডলার এবং ৮ লাখের বেশি ৯ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত ২৩ ডলার করে পাবে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশে গ্রিনফল্ড প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে এটি দেশের জন্য যেমন সুখবর তেমনই গৌরবের। বাংলাদেশের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ এই টার্মিনাল চালু হলে সেবার মান ও প্রতিযোগিতা যেমন বাড়বে, তেমনই ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম