Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

রৌহাডুবি বিলে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাপলা

Icon

এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রৌহাডুবি বিলে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাপলা

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাসের রৌহাডুবি বিলে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাপলা ফুল। সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে আশপাশসহ দূরদূরান্ত থেকে পল্লি প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থী ও পর্যটকদল এখানে ছুটে আসে। তবে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যবিনাশী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই জলাধার সংরক্ষণ আইন এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে এলাকাবাসীকে সচেতন করতে কাজ করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। নদীমাতৃক ও জলাভূমিপ্রধান বাংলাদেশে বিল-ঝিল, ডোবা ও পুকুরে প্রচুর সংখ্যক সাদা ও লাল শাপলা ফোটে। আবহমান কাল থেকেই শাপলা ফুল বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় জাতীয় ফুলের মর্যাদা পায়। তবে, অপরিণামদর্শী লোকজনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যবিনাশী কর্মকাণ্ডে হারিয়ে যেতে বসেছে শাপলা।

বুধবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নে সত্যজিৎ রায়ের আদি নিবাসের রৌহাডুবি বিলের শাপলা ফুলের সাম্রাজ্য দেখতে আসেন বেশ কজন পরিবেশবাদী ও সংস্কৃতি সচেতন মানুষ। তাদের সঙ্গে কথা হলে তারাও বাঙলার চিরন্তন প্রকৃতির এমন বেহাল দশা দেখে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে সংস্কৃতিকর্মী ও পরিবেশবাদী রাজিব সরকার পলাশ ও হুমায়ুন কবীর সোহাগ বলেন, প্রতিদিনই আশপাশের লোকজনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী ও পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস। তবে, পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আজ আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা পর্যন্ত হারিয়ে যেতে বসেছে। এ সময় তারা সরকার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জলাধার সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ নিয়ে কথা হলে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাসের রৌহাডুবি শাপলা বিলটি আজও অতীত ঐতিহ্য নিয়ে টিকে রয়েছে। আমরা ঐতিহ্যবাহী এই বিলের শাপলা ফুলের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি। একই সঙ্গে শিশু, কিশোর ও তরুণরা যাতে দলে দলে শাপলা ফুল তুলে বিলের সৌন্দর্যহানি না করে সে বিষয়েও এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম