Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

নিকার সভায় উঠছে প্রস্তাব

ভাগ হচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ক্ষমতা

Icon

আমিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ক্ষমতা মাঠ প্রশাসনে ভাগ করে দেওয়া হবে। কেন্দ্র থেকে সব কাজ যথাযথভাবে তদারকির সমস্যা হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিভাগীয় শহরে স্থাপন করা হবে ৮টি পরিচালকসহ সহায়ক অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর কার্যালয়। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করা হবে।

ন্যাশনাল ইমপ্লিমেনটেশন কমিটি ফর অ্যাডমিনেসট্রেটিভ রিফর্ম (নিকার)-এর আগামী মঙ্গলবারের সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উত্থাপন হতে পারে বলে জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মোট ৮টি প্রস্তাব উত্থাপন হবে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয় স্থাপন ও পদ সৃজন। গণপূর্ত অধিদপ্তরেরর পুনর্গঠন, উপজেলা পর্যায়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের শাখা অফিস বিস্তৃতকরণ। কক্সবাজারের মহেশখালী থানাধীন ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন পাম্পিং স্টেশন অ্যান্ড ট্যাংক ফার্ম এলাকার সন্নিকটে কালারমারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানাধীন কেরোয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র এবং বগুড়া জেলার মোকামতলা উপজেলাধীন মোকামতলা পৌরসভা গঠন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৪৬ জন জনবল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা সংস্থাটির জনবল বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার ৪৮৫ জন। অধিদপ্তরের আওতায় ৬৪ জেলা কার্যালয়, ৬৪ যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ৫টি যুব উন্নয়ন একাডেমি রয়েছে। কেন্দ্র থেকে ৪২টি প্রাতিষ্ঠানিক ও ৪২টি অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডের প্রশিক্ষণ তদারকি প্রায় সমস্যা হচ্ছে। তাই বিভাগীয় সদরে ৮টি পরিচালক, ৮টি উপ-পরিচালক এবং ২টি করে প্রতি বিভাগে সহকারী পরিচালকের দপ্তর সৃষ্টি করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। এতে মাঠের কাজ সঠিকভাবে তদারকি সম্ভব হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রায় ২০০ বছর ধরে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, ইমারত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। দেশের প্রতিটি জেলায় রয়েছে এই সংস্থার কার্যালয়। এখন উপজেলায়ও স্থাপন করা হবে উপ-বিভাগীয় দপ্তর। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-এর বিধি মোতাবেক ভবন নির্মাণ করতে হয়। ভূমিকম্পসহ প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ভবনের নকশা ভিন্ন হয়। বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণসংক্রান্ত নির্ধারিত মানদণ্ডও রয়েছে। সে আলোকে কার্যক্রম পরিচালনায় উপজেলা পর্যায়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যক্রম বিস্তৃত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হতে পারে। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৩১১টি পদ স্থায়ীভাবে সৃজনের প্রস্তাবও উঠতে পারে।

জনসংখ্যার ঘনত্ব, অকৃষি পেশার শতকরা হার এবং এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যে কোনো পল্লি এলাকাকে সরকার শহর ঘোষণা করতে পারে। এলাকার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া জেলার মোকামতলা পৌরসভা ইতোমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানো হয়েছে, মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি উত্থাপন হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে মোকামতলা পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রস্তাবিত পৌরসভার জনসংখ্যা ৬২ হাজার। প্রতি কিলোমিটারে ৬ হাজার ২শ জন বসবাস করেন। অকৃষি পেশা শতকরা হার ৭৫ শতাংশ। অকৃষি ভূমির পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত এই পৌরসভা থেকে বার্ষিক প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫শ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। সুতরাং এলাকাটি পৌরসভায় রূপান্তরের প্রস্তাব সভায় উত্থাপন হতে পারে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম