বুড়িচং সীমান্তে মাদকের কারবার
হানু-নাছির চোরাচালান সিন্ডিকেট বেপরোয়া
পুলিশ-বিজিবির ছায়ায় চার পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ * সহযোগিতায় শতাধিক বাহক ও ছোট কারবারি
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হানু-নাছির মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট। পুলিশের চলমান সাঁড়াশি অভিযানের বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি চক্রটির ওপর। চলমান অভিযানের মাঝেও রমরমা মাদক কারবারি চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বিজিবি ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ থাকায় সিন্ডিকেটটি সীমান্তের চারটি পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ভারত থেকে ইয়াবা, গাঁজা, ট্যাপেন্ডল, স্কার্ফ, শাড়ি, থ্রিপিস, আতশবাজি, কসমেটিক, মসলাসহ নানা অবৈধ পণ্য আনছে। এসব পণ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে নগরীর গাংচর এলাকার সোহেল ফরহাদ সিন্ডিকেটের কাছে। এভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বুড়িচংয়ে শীর্ষ চোরাকারবারির তালিকায় রয়েছে উপজেলার ছয়গ্রামের নাছির উদ্দিন ও খারেরা এলাকার হানু মিয়ার সিন্ডিকেট। তাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে রয়েছে রফিজ মেম্বার ও গাজী মিয়া। প্রভাবশালী এ সিন্ডিকেট বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জামতলা, ঘাটলা, শংকুচাইল ও খারেরা এলাকার চোরাই পথ নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের অধীনে শতাধিক বাহক এবং ছোট ছোট মাদক চোরাকারবারি কাজ করছে। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকছে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদকদ্রব্য। এসব পণ্য সরাসরি চলে যায় নগরীর গাংচর এলাকায়। সেখানে নগরীর ভাটপাড়া এলাকার মো. সোহেল ও পাঁচথুবী এলাকার ফরহাদ গড়ে তুলেছেন বিশাল কারবার।
স্থানীয়রা জানায়, সীমান্তের বিপুল পরিমাণ অবৈধ চোরাইপণ্য গাংচর এলাকায় সোহেল-ফরহাদ সিন্ডিকেটের গোডাউনে একত্র করা হয়। পরে সেগুলো মাইক্রোবাস ও পিকআপে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। সীমান্তের ঘাটলা এলাকার বাসিন্দা ইয়াছিন সরকার বলেন, হানু-নাছির সিন্ডিকেট সীমান্তের চারটি পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড রমিজ মেম্বার ও গাজী মিয়া। তারা প্রতি রাতেই চোরাচালানের ফাঁকে ফাঁকে মাদক নিয়ে আসছে।
শংকুচাইল সীমান্তের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, ‘বিজিবি-পুলিশের কিছু সদস্য এই সিন্ডিকেটকে সাহস যোগাচ্ছে। চলমান সাঁড়াশি অভিযানে উলটো চক্রটির ব্যবসা চাঙা হয়েছে। আপনারা পত্রিকায় লিখে কোনো লাভ হবে না। তাদের হাত অনেক লম্বা।’
কথা হলো অভিযুক্ত হানু মিয়া ও নাছির উদ্দিনের সঙ্গে। তাদের দাবি, ‘আমরা মাদকের সঙ্গে জড়িত নই। ভারত থেকে কিছু বাসমতি চাল ও কসমেটিক আসে। এগুলো বিক্রি করে আমরা জীবন চালাই।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহেল ও ফরহাদ। তাদের দাবি, তারা কসমেটিক বিক্রি করলেও মাদক কারবারে জড়িত নয়।
বুড়িচং থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘হানু-নাছির সিন্ডিকেটের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেব। মাদককারবারিতে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটকে বিজিবি প্রশ্রয় দেয় না। বুড়িচং সীমান্তসহ আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।’
