Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম

সংস্কারের নামে সোয়া ২ কোটি টাকা নয়ছয়

কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সংস্কারের নামে চলছে ‘হরিলুট’। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কিংবা পর্যাপ্ত সামগ্রী না দিয়ে চলছে সংস্কারকাজ। সংস্কার বাজেটের প্রায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা নয়ছয়ে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই টাকায় ভেতর-বাইরে রং করা, নতুন আরসিসি সড়ক তৈরি ও সংস্কার করা হচ্ছে। ‘সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘দেশবন্ধু’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজগুলো করছে। কাজ তদারকি করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা রোববার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, দেশবন্ধু নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা স্টেডিয়ামের গ্যালারি রং করার কাজ সবেমাত্র শেষ করেছেন। নতুন আরসিসি সড়ক নির্মাণও করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের সামনের প্রবেশপথ সংস্কার এবং সীমানাপ্রাচীর রং করার কাজ চলার সময় রোববার দুপুরে তা বন্ধ করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার দুপুরে স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, সামনের প্রবেশপথ সংস্কার গত শনিবার শেষ হলেও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মচারীরা অভিযোগে বলেন, স্টেডিয়ামের সামনের অংশ কার্পেটিং হয়েছে শনিবার। কিন্তু এমন যেনতেনভাবে কাজ হয়েছে যে, সোমবারও তা জমাট বাঁধেনি। হাত দিলেই উঠে আসছে কার্পেটিং। রোববার রাতে একটু বৃষ্টি হয়েছে। এতেই পিচ সরে ইটের খোয়া বের হয়েছে। খোয়া ও পাথর ছাড়াই সোজা বালুর ওপর পিচ ঢেলে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিসিবির কাউন্সিলর যুবদল নেতা মোজাদ্দেদ জামানী সুমন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, একটু আঁচড় দিতেই কার্পেটিং উঠে আসছে। আমরা দেখেছি সংস্কার করা সড়কে খোয়া বা পাথরই নেই। শুধু বালুর সঙ্গে সামান্য বিটুমিন মিশিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। কাজের মান এতই খারাপ, যা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আমরা প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জেনেছি কাজ ঠিকমতো বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব ক্রীড়া পরিষদের ভেন্যু ম্যানেজার ও প্রশাসনের। তারা দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মনে হচ্ছে না। দায়সারা এই কাজের তদন্ত হওয়া দরকার। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কাজগুলো রাতের আঁধারে করা হয়েছে।

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মচারীরা অভিযোগে বলেন, কয়েক দিন আগে গ্যালারি রং করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও রং লেগেছে, কোথাও লাগেনি। সিশিউলে বার্জারের রং দেওয়ার কথা বলা হলেও কোন কোম্পানির রং লাগানো হয়েছে কেউ দেখেনি। দুজন রংমিস্ত্রি একদিনেই গোটা গ্যালারি রং করেছেন, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। খোঁজ নিয়ে রংমিস্ত্রি ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, বার্জারের রং তাদেরকে দেওয়া হয়নি। যেটা দেওয়া হয়েছে সেই রং লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু কাজ বাকি থাকলেও আমাদের রোববার থেকে আর কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে রঙের কাজটি সাব-কন্ট্রাক্ট নেন ফজলে রাব্বি খান। তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে কাজটি পেয়েছে অন্য ঠিকাদার। তিনি সেই ঠিকাদারের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। তবে বার্জারের চেয়ে ভালো রং তিনি দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্টেডিয়ামের দেখভালের দায়িত্বে আছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামাল হোসেন, ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান ও সাইট ইনচার্জ মানিক সরকার। সোমবার দুপুরে কামাল হোসেন স্টেডিয়ামে অবস্থান করলেও কথা বলেননি সাংবাদিকদের সঙ্গে। বাকি দুই কর্মকর্তা দুপুরের দিকে স্টেডিয়ামের বাইরে ছিলেন। স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার সাইফুল্লাহ খান জানান, কাজ অতি নিম্নমানের হয়েছে এটা ঠিক। তিনি ক্রীড়া পরিষদের সংশ্লিষ্টদের কাছে বলেছেন বিষয়টি। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন কাজ নিম্নমানের হয়েছে। এ কারণে ঠিকাদার বিল চাইলে তিনি তা অনুমোদন থেকে বিরত আছেন। তিনি ঠিকাদারকে জানিয়েছেন, কাজ যথাযথ মানে না বুঝে পেলে বিল দিতে পারবেন না।

এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবিএম এহছানুল মামুন জানান, রাজশাহী স্টেডিয়ামের কাজে অনিয়মের বিষয়ে প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান তাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম