Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা

থমকে আছে সাঁথিয়ার গ্যাস অনুসন্ধান

Advertisement

Icon

আব্দুদ দাইন, সাঁথিয়া (পাবনা)

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দেশ যখন তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে, তখন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের পাগলা-চণ্ডীপুরের সম্ভাবনাময় গ্যাসকূপে অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা সম্ভাবনাময় কূপ হিসাবেই এখানে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করেছিল। এলাকাবাসীর দাবি, দেশে এই সংকটকালীন মুহূর্তে কূপটিতে গ্যাস অনুসন্ধান চালু করা হোক। পাগলা কূপটি সচল করা সম্ভব হলে তা কেবল জাতীয় গ্রিডেই গ্যাস সরবরাহ বাড়াবে না, পাশাপাশি পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র, কলকারখানা প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থানে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটাবে। জনস্বার্থে দ্রুত কূপটির সার্বিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, পেট্রোবাংলার অধীনে ২০০৯ সালের দিকে ২৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন শুরু করে বাপেক্স (পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি)। ২০১৪ সালের আগস্টে পেট্রোবাংলার তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর কূপখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন। খননের পর পাইপলাইনে আগুন জ্বালানোও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে খনন স্থগিত করে অন্যত্র চলে যায় বাপেক্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি জমি লিজ ও খনন এলাকা এখনো রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানান, পাগলা কূপে অনুসন্ধানের সময় ভূগর্ভের প্রায় ৪ হাজার ২৫০ মিটার থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতায় গ্যাসের পাঁচটি সম্ভাবনাময় গ্যাস স্তরের সন্ধান মেলে। কিন্তু সে সময় কারিগরি জটিলতা ও ভূগর্ভে অতিরিক্ত চাপের কারণে গ্যাস উত্তোলনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সম্ভাবনাময় হওয়ার পরও কূপটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাবনাময় কূপে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকার এটি চালু করতে পারে। এজন্য কূপটির সম্ভাবনা নতুন করে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা সাঁথিয়ার এই কূপ চালুর প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা নতুন করে সম্ভাবনা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তায় মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও গভীর অনুসন্ধান শুরু করার বিশাল উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

ওই প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এসএএম মেরাজুল আলম বলেন, পাগলা কূপে গ্যাসের সম্ভাবনা থাকলেও তা সফল হয়নি। সুজানগরের মোবারকপুর নতুন গভীর কূপ খনন করা হচ্ছে। এখানে সাফল্য এলে আশপাশের এলাকায় আরও কূপ খননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, পুনরায় খনন অনুমোদন পেলে এবার পাগলায় গ্যাস অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। গ্যাসকূপটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হলে পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম