কুমিল্লায় গোমতী বেড়িবাঁধ
শতাধিক চা দোকানে বিক্রি হচ্ছে মাদক
সন্ধ্যা নামলেই বাইকার ও তরুণ-তরুণীদের ভিড় * চায়ের কাপে মদ, ৬০০ টাকায় দুই সিগারেট
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার আমতলী থেকে সীমান্তমুখী বিবির বাজার পর্যন্ত গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়কটি এখন চা-কফির দোকানের আড়ালে মাদকের হাটে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধের দুই ধারে গড়ে ওঠা শতাধিক ভাসমান ও স্থায়ী দোকানে সন্ধ্যা নামলেই বসে বাইকার ও তরুণ-তরুণীদের আড্ডা; যার মূল আকর্ষণ অবাধে মাদকসেবন। এসব দোকানে ১০ টাকার চা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। চায়ের কাপে সরবরাহ করা হয় মদ। এমনকি অভিনব কৌশলে সিগারেটের ভেতর ইয়াবা বা গাঁজা ভরে দুই শলাকা সিগারেট বিক্রি করা হয় ৬০০ টাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে প্রকাশ্যে এসব মাদক ব্যবসা চললেও তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন। তবে পুলিশের দাবি, মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
জানা যায়, সকাল থেকে বিকাল এই বেড়িবাঁধ সড়কে থাকে সুনসান নীরবতা। সূর্য ডুবতেই পালটে যায় দৃশ্যপট। মনোরম বিনোদনকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত এলাকাটি রাতের আঁধারে রূপ নেয় মাদকসেবন ও বিক্রির হাটে। আলো ঝলমলে শতাধিক চায়ের দোকানে বাইকার ও তরুণ-তরুণীদের ঢল নামে। চা-কফির আড়ালে চলে অবাধ মাদক বাণিজ্য। মোটরসাইকেল পার্ক করে অনেক তরুণ নেমে যান নদীর নির্জন চরে। বেড়িবাঁধ ও নদীর চরে অবাধে চলে মাদক বেচাকেনা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন কয়েকশ মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস নিয়ে বেড়িবাঁধ সড়কের চা দোকান এবং আশপাশের চর ও বাড়িঘরে ভিড় করেন হাজারো মাদকসেবী। এসব দোকানে গাঁজা, ইয়াবা, ফেয়ারড্রিল (ফেনসিডিল), স্কার্প ও হুইস্কি বিক্রি করা হয়।
গোমতী পাড়ে একটি চা দোকানে দেখা যায়, দুটি সাধারণ সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। পরে জানা যায়, সিগারেটের স্টিকের ভেতর ইয়াবা বা গাঁজা ভরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ভারত সীমান্তের গোলাবাড়ী ও বিবিরবাজার থেকে অবাধে মাদক আসছে এসব চা দোকানে। শুভপুরের বাসিন্দা হানিফ চৌধুরী বলেন, গোমতী বাঁধের দোকানগুলোয় প্রতি কাপ চা বিক্রি হয় ৫০ টাকা। কারণ, তাতে চায়ের বদলে মদ সরবরাহ করা হয়। সিগারেটের মধ্যে গাঁজা বা ইয়াবা ভরে বিক্রি করা হয়। পুলিশ সবই জানে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয় না। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন, গোমতী বাঁধে প্রাকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। শত শত মোটরসাইকেল আরোহী মাদকসেবন করতে আসছেন। আমাদের তরুণ সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য এ কারবারিদের চেনেন। কিন্তু মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, বেড়িবাঁধ সড়কের দুই ধারে চা দোকানগুলোয় মাঝেমধ্যে মাদক বিক্রির খবর আসে। আমরাও এসব দোকানে অভিযান চালাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। তিনি বলেন, তারা মাদক বিক্রি করলেও নানা কৌশল অবলম্বন করছে। এসব মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

