Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ঘুসের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ

ভুয়া নিয়োগে এমপিওভুক্ত অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারী

নীলফামারীতে আ.লীগের এমপির দেওয়া নিয়োগে এমপিওভুক্তির সুপারিশ জামায়াতের এমপির

আব্দুর রাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভুয়া নিয়োগে এমপিওভুক্ত অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারী

Advertisement

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগে অর্ধশত শিক্ষক ও কর্মচারীকে এমপিওভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে এক মাদ্রাসায় ১৮ জনের এমপিওভুক্তসহ ২৩ জনের জাল সনদ ও অবৈধ নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। সেই প্রতিষ্ঠানের বাকি পাঁচজনকেও এমপিওভুক্তির চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় একজনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ডিও লেটার তথা সুপারিশ রয়েছে। এভাবে এমপিওভুক্ত করে জালিয়াতি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

জানা যায়, চক্রটি মাদ্রাসা সুপার ও অধ্যক্ষের যোগসাজশে ব্যাকডেটের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভুয়া পেপারকাটিং তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সই জাল করে নিবন্ধনহীন ২০০৫ সালের আগে এবং জাল নিবন্ধনে ২০১৬ সালের আগে অনেককে নিয়োগ দেখায়। এরপর কর্মচারীর জন্য ৮-৯ লাখ টাকা ও শিক্ষক পদে ১৪-১৫ লাখ নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ফাইল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে এমপিওভুক্ত করানো হয়।

এ চক্রের মাধ্যমে বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ১৮ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। সেই চক্র এখন রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন করেছে। তারা একজনকে প্রভাষক পদে ২০১৫ সালে, অফিস সহকারী হিসাবে একজনকে ২০২৪ সালে এবং ল্যাব সহকারী পদে তিনজনকে ২০২৩ সালে নিয়োগ দেখিয়েছে। তারা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এসব প্রার্থীকে এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের জন্য উপজেলা বিএনপির এক নেতা তদবির করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সময়ও চক্রের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বিভিন্ন মাদ্রাসায় ১৫-২০ জনের এমপিওভুক্তি হয়। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় তিনি পাঁচ মাদ্রাসার ১৭ জনের ভুয়া নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছে-কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলবি শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষক, কিশোরগঞ্জ কেশবা ফাজিল মাদ্রাসার জীববিজ্ঞানের প্রভাষক, নৈশপ্রহরী, মৌলবি শিক্ষক ও দুইজন সহকারী। বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাষক, ইংরেজির সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী, এমএলএসএস ও আয়া। চাঁদখানা বড়িরহাট এইউ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী বাংলা শিক্ষক, নিরাপত্তাপ্রহরী, আয়া ও ভেড়ভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সমাজবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক। তাদের অনেকে বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সময়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জামান সরকার জানান, নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। তবে ওই ফাজিল মাদ্রাসায় আগের দেখানো নিয়োগের পাঁচজনের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে অফিসে জমা পড়েছে। সেগুলো অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য একাধিক পক্ষ চাপ দিচ্ছে।

এদিকে, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য গোলাম মোস্তফা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি থাকাকালে একজনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেখানো হয়েছিল। তাকে এমপিওভুক্তির জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। এ বিষয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিক কল করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মূল্যস্ফীতির চাপে কমছে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা

মূল্যস্ফীতির চাপে কমছে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা

নওগাঁয় দক্ষিণ আমেরিকার ফল প্যাশন বদলগাছীতে সাড়া ফেলেছেন মোরছালিন

বদলগাছীতে সাড়া ফেলেছেন মোরছালিন

চাষে সম্ভাবনা দেখছেন রায়হান

চাষে সম্ভাবনা দেখছেন রায়হান

খুলশীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অপরাধ সাম্রাজ্য

খুলশীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অপরাধ সাম্রাজ্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম