Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

বেহাল বরিশালের দুই বাসটার্মিনাল

নথুল্লাবাদে ভাঙা সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও রূপাতলীতে কাদা-পানিতে দুর্ভোগ

Advertisement

Icon

অনিকেত মাসুদ, বরিশাল

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বেহাল বরিশালের দুই বাসটার্মিনাল

Advertisement

প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১০০ বাসে কয়েক হাজার যাত্রী ওঠানামা করেন বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাসটার্মিনালে। এসব টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবার চিত্র একেবারেই উলটো। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় নথুল্লাবাদ টার্মিনালে চলাচলের পথ ভাঙাচোরা ও বর্ষায় তলিয়ে যায় পানিতে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পুরোনো ভবনটিও। রূপাতলী টার্মিনালের অবস্থাও নাজুক। সেখানে নেই মানসম্মত যাত্রী ছাউনি, বর্ষায় কাদা-পানি মাড়িয়েই বাসে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে দুই টার্মিনালেই প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

তথ্যমতে, বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদ ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪০০ দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে আরও প্রায় দেড়শ বাস। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ বাস এ টার্মিনাল ব্যবহার করে।

এত বিপুলসংখ্যক বাস চলাচল করলেও টার্মিনালের ভেতরে একসঙ্গে সর্বোচ্চ মাত্র ১০০ বাস পার্কিং করার সুযোগ রয়েছে। ফলে জায়গার সংকটে অধিকাংশ সময় টার্মিনালের বাইরে কুয়াকাটা-বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে হয়। এতে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

টার্মিনালের অভ্যন্তরের চলাচলের পথও দীর্ঘদিন ভাঙাচোরা। বর্ষা এলেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদা ও গর্তে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ভবনটি পুরোনো হওয়ায় পলেস্তারা খসে পড়ছে বহুদিন ধরে। ঝুঁকি নিয়েই সেখানে বসে বাসের অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। টার্মিনালে পর্যাপ্ত টয়লেটও নেই। যেগুলো রয়েছে, তার অধিকাংশই অপরিষ্কার বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

নথুল্লাবাদ থেকে যাতায়াতকারী পটুয়াখালীর মোবারক মিয়া বলেন, টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস চলাচল করে-রাজস্বও আসে। এরপরও বছরের পর বছর যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত টার্মিনাল সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা দরকার। অন্যদিকে নগরীর রূপাতলী বাসটার্মিনাল থেকেও প্রতিদিন ১৫টি অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৫০০ বাস যাত্রী পরিবহণ করে। এখানকার অবস্থাও দীর্ঘদিন বেহাল। উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার মতো মানসম্মত যাত্রী ছাউনি নেই। পুরোনো যে ছাউনি রয়েছে, তাতেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। বর্ষাকালে কাদা-পানি মাড়িয়ে যাত্রীদের বাসে উঠতে হয়।

রূপাতলী বাসটার্মিনালে আসা যাত্রী বরিশালের সুমন হাওলাদার বলেন, বৃষ্টির সময় টার্মিনালে ঢুকলেই বৃষ্টি আর কাদা-পানিতে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। বসার জায়গাও পর্যাপ্ত নয়। পরিবার নিয়ে যাতায়াতের সময় শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে টার্মিনালে দ্রুত উন্নতসেবা নিশ্চিত করা উচিত।

রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, বাসটার্মিনাল আধুনিকায়ন না হওয়ায় যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।

বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, টার্মিনাল সংস্কারের জন্য বহুবার বরিশাল সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। বর্তমানে এর অবস্থা খুবই নাজুক। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সচিব রুম্পা সিকদার বলেন, টার্মিনালের উন্নয়নে বিসিসি সজাগ রয়েছে। নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা, তা প্রধান প্রকৌশলী বলতে পারবেন। এ বিষয়ে বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম