Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

রাগ থেকে রোজগার

হাঁস পালন করে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

Advertisement

Icon

জাহাঙ্গীর ইসলাম, শেরপুর (বগুড়া)

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাঁস পালন করে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

Advertisement

এক যুগ আগে হাঁস খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল ফজলুর রহমানের। প্রতিবেশীর কাছে হাঁস কিনতে গিয়ে ব্যর্থ হন। হাঁস বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় মনে জমে ক্ষোভ। সেই রাগ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই পালন করবেন হাঁস। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে তার জীবন। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রামের ফজলু এখন ২৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করছেন। প্রতিদিন পাচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার ডিম। ডিম বিক্রি করেই মাসে আয় করছেন প্রায় ৩ লাখ টাকা।

সরেজমিন রোববার দুপুরে দারুগ্রামে প্রবেশের পরই চোখে পড়ে ফজলুর হাঁসের খামার। ২৪ শতাংশ জমির একাংশে পুকুর, অন্য অংশে হাঁস পালনের ঘর। এই সীমিত জায়গাতেই প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করছেন তিনি।

ফজলু জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান। ধান কাটা-মাড়াই শেষে জমি ফাঁকা থাকলে সেখানে হাঁস ছেড়ে দেন। এতে খাবারের বাড়তি খরচ হয় না। তবে দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়।

তিনি আরও জানান, প্রতি ছয় মাসে একেকটি প্রকল্প শেষে খরচ বাদ দিয়ে তিনি ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় করেন। এক সময় তার সংসারে অভাব-অনটন ছিল। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন তিনি স্বাবলম্বী।

দীর্ঘ ১২ বছর হাঁস পালন করলেও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হয়নি ফজলুর রহমানকে। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাঁসের চিকিৎসা করে আসছেন তিনি। তার এ দক্ষতার কথা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ হাঁসের চিকিৎসা নিতে তার কাছে আসেন।

ফজলুর রহমানের সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যে হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে। শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়ায কাযমীর রহমান বলেন, উপজেলায় প্রায় ৫০টি হাঁসের খামারি রয়েছেন। খামারিদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ে কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম