জড়িত কিশোর গ্যাং, মাদকসেবী
কুমিল্লা নগরীর ১০ পয়েন্টে বেড়েছে ছিনতাই ডাকাতি
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা নগরীর ১০টি পয়েন্টে বেড়েছে ছিনতাই-ডাকাতি। গুরুত্বপূর্ণ এসব পয়েন্ট ঘিরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। এতে বাসিন্দাদের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। সাধারণ পথচারী, নারী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র এবং প্রবাস ফেরতরা তাদের টার্গেটে পরিণত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং এবং মাদকসেবীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ছিনতাই-ডাকাতি করছে। এসব পয়েন্টে সন্ধ্যার পর জনমনে বাড়ে আতঙ্ক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর টমছম ব্রিজ, শাকতলা, পদুয়ার বাজার, ঢুলিপাড়া, মেডিকেল কলেজ রোড, দক্ষিণ চর্থা, গোমতী বেড়িবাঁধ, কাপ্তান বাজার, অশোকতলা, ঠাকুরপাড়া এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আর এজন্য দায়ী কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ মাদকসেবী চক্র।
স্থানীয়রা জানায়, ছিনতাইকারীদের প্রধান বাহন মোটরসাইকেল। সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে একাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে তারা ঘোরাঘুরি করতে থাকে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন করে ওঠে। এসব পয়েন্টের নির্জন এলাকায় হাঁটা-চলার সময় পথচারীদের গতিরোধ করে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল এবং নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। তাছাড়া যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক ব্যারিকেড দিয়ে মুহূর্তে ধারালো ছুরি বা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নেয় মোবাইল, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র। বাধা দিলে দায়ের কোপ বা ছুরিকাঘাত করতেও তারা দ্বিধা করে না।
৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গোমতী বেড়িবাঁধে ছিনতাই চক্রের কবলে পড়েন প্রবাসী বিল্লাল হোসেন। কাপ্তান বাজার এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেল তার অটোরিকশাকে ব্যারিকেড দিয়ে একটি আইফোন এবং ১৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ২৯ আগস্ট নগরীর ঢুলিপাড়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম সাকিবকে ছুরি দেখিয়ে টাকা ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন নগরীর লাকসাম রোডে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের সামনে সিএনজি অটোরিকশার ভেতরেই এক যাত্রীকে জিম্মি করা হয়। স্থানীয়রা ধাওয়া করে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও অপরজন পালিয়ে যায়। এর আগে ১৪ জুলাই টমছম ব্রিজ এলাকায় ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন ইতালি প্রবাসী আফজাল হোসেন। তার কাছ থেকে আইফোন, নগদ টাকা এবং গ্রিন কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ১৫ জুলাই সদর দক্ষিণ থানায় অভিযোগও করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই এসব ছিনতাইকারী স্পট পরিবর্তন করে ফেলে। টমছম ব্রিজ থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত সড়কে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর এ সড়কে ছিনতাই-ডাকাতির আতঙ্কে ভোগেন বাসিন্দারা। শাকতলার বাসিন্দা সালেহ আহমদ বলেন, ছিনতাই-ডাকাতি নগরীর প্রধান সমস্যা। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হলে আতঙ্কে থাকি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, প্রায় দিনই ছিনতাইকারী গ্রেফতার করা হচ্ছে। এক মাসে অর্ধশতাধিক ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করব। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘ছিনতাই প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই ৬টি ফাঁড়িতে নতুন করে ৩০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।’

