Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

যুবককে জিম্মি করে ২১ লাখ টাকা আদায়

ফেঁসে যাচ্ছেন সিএমপির এসি শরীফুল

Advertisement

Icon

এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেঁসে যাচ্ছেন সিএমপির এসি শরীফুল

Advertisement

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে মো. আক্তারুজ্জামান শাকিল নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের এসি শরীফুল আলম চৌধুরী। গত বুধবার এ নিয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিন পুলিশে (সিএমপি) তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সিএমপির ডিসি মোহাম্মদ বদিউজ্জামানকে আহ্বায়ক করে এক সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দিও গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে তুলে আনা আটজনের টিমের ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। টিমে থাকা বহিরাগত দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের শনাক্তে কাজ করছে কমিটি। নিজ কার্যালয়ে জিম্মি করে ভুক্তভোগীর বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট (ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময়), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ‘নগদ’ অ্যাপ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) শরীফুল আলমের সম্পৃক্ততা মিলেছে বলে জানা গেছে। এদিকে সাড়ে তিন মাস আগেও নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় কাভার্ডভ্যান ভর্তি বিদেশি মদের একটি চালান আটক করে ১১০ কার্টন বিদেশি মদ গায়েবের অভিযোগ রয়েছে এসি শরীফুলের বিরুদ্ধে। তিনি কাভার্ডভ্যানটিও আটক করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে ১১০ কার্টন বিদেশি মদ সরিয়ে ফেলেন পুলিশের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পরে সেগুলো নিজের বিশ্বস্ত পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে বিক্রি করেছিলেন বলে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, গত ২৭ মে রাতে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২নং রোডে বিদেশি মদভর্তি একটি কাভার্ডভ্যান আটক করেন সাদা পোশাকে থাকা সিএমপির এলআইসি (ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেল) শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী। পরে কাভার্ডভ্যানটি নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যান তিনি। গাড়িটি পুলিশ লাইন্সের ভেতর রেশন গোডাউনের পাশে রাখা হয়। এরপর রাতভর চালকসহ সাতজনকে এলআইসি শাখায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

একপর্যায়ে মদের চালানের ক্রেতা অরুণ ও জালালকে ছেড়ে দিয়ে কাভার্ডভ্যান থেকে ১১০ কার্টন বা এক হাজার ৩২০ বোতল (প্রতি কার্টনে ১২ বোতল করে) মদ সরিয়ে ফেলেন তিনি। পরে ২০৪ কার্টন মদ জব্দ তালিকা করে মামলা দেয়া হয়। বিদেশি মদগুলোর মধ্যে ছিল-গোল্ড লেভেল, ব্ল্যাক লেভেল, সিভাস রিগ্যাল, জ্যাক ড্যানিয়েল, ব্যালান্টাইন, পাসপোর্ট ও ১০০ পাইপার্স। পরে গোল্ড লেভেল প্রতি কার্টন এক লাখ টাকায়, ব্ল্যাক লেভেল ৯২ হাজার, সিভাস রিগ্যাল ৯২ হাজার, জ্যাক ড্যানিয়েল ৯০ হাজার এবং ব্যালান্টাইন, পাসপোর্ট ও ১০০ পাইপার্স ৫০ হাজার করে বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘গত কোরবানি ঈদের আগের রাতে কমিশনার স্যারের কথা বলে ওই অভিযানে নিয়ে যান এসি শরীফুল স্যার। এরপর মদভর্তি গাড়িটি এসি স্যারের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরপর কী হয়েছিল আমি জানি না।’

এদিকে তুলে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী মো. আক্তারুজ্জামান শাকিলের জবানবন্দি নিয়েছে তদন্ত কমিটি। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর কার্যালয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় শাকিলের সঙ্গে তার বন্ধু মুনসুর ও মুনসুরের বড়ভাই ছিলেন। অভিযোগ ওঠা পুলিশ সদস্যদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট (ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময়) ব্যবহার কিংবা অনলাইনে জুয়া খেলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শাকিল মোবাইল ফোনে স্টিক (অনলাইন ক্যাসিনো), ওয়ানএক্সবেট ও স্পোর্টস বেট জুয়া খেলত। ওই গেমগুলো তার ফোনে পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে সিএমপির ডিসি পিওএম মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বলেন, ‘কোনো অপরাধীই অপরাধ করে স্বীকার করে না, হোক পুলিশ বা পাবলিক। প্রমাণের ভিত্তিতে স্বীকার করাতে হয়। প্রাথমিকভাবে ভিকটিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে। প্রতিবেদন দেওয়ার আগে এর চেয়ে বেশি বলা যাচ্ছে না।’ অনলাইনে জুয়া খেলার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাকে পুলিশের অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তার (শাকিল) বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম