মিরপুরে গৃহকর্মী নির্যাতন
সরকারের কাছে বিচার চাইলেন শিশু তানিয়ার বাবা
Advertisement
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার মিরপুরে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করতে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার শিশু তানিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে রেফার করা কথা ভাবছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে এ ঘটনায় নিজে মামলা না করলেও সরকারের কাছে বিচার চেয়েছেন তানিয়া বাবা বেলাল হোসেন।
বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েরে যে এভাবে হুইলচেয়ারে বসাইছে, ওনারেও (শিশু নির্যাতনকারী মোর্শেদা আক্তার সুবনা) যাতে আল্লাহ এইভাবে হুইলচেয়ারে বসায়। কারণ তারে মারধর করার ক্ষমতা আমার নাই। আমার কোনো টাকা-পয়সাও নাই, অর্থ-বিত্তও নাই। আল্লাহই যেন নিজে তারে হুইলচেয়ারে বসায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে দাবি-আমার মেয়েটার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ব্যবস্থা যেন করে। পাশাপাশি ওই মহিলাকে যেন শাস্তির আওতায় আনে। এখন মামলা করতে গেলে আদালতে থানায় দৌড়াতে হবে। আমার মেয়েকে দেখার মতো কেউ থাকবে না। মেয়েটা ওয়াশরুমে যেতে চাইলে আমাকেই কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। মেয়েটাকে আর দেখাশোনা করবে কে? আমার মেয়ের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে আমি তার বিচার চাই। তার কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’
মঙ্গলবার বিকালে হাসপাতালের বারান্দায় হুইলচেয়ারে বসে তানিয়া তার ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলে, ‘আমাকে গরম খুন্তি দিয়ে মারত। তারপর ছুরি দিয়ে, ব্লেড দিয়েও ব্যথা দিত। আমাকে রাতে বারান্দায় ফেলে রাখত, আর দিনের বেলায় ওয়াশরুমে ফেলে রাখত। বাবার সঙ্গে আমাকে কোনো কথা বলতে দিত না। আমি এখন এর বিচার চাই।’
খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর ভর্তির পর থেকে আমরা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণ করেছি। তার কন্ডিশন খুব একটা ভালো নয়। শিশুটির সেপসিস বা রক্তে ইনফেকশন আছে, যেটা সব জায়গায়ই ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। সে হিসাবে আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি রোগীকে ভালো চিকিৎসার জন্য ভালো জায়গায় পাঠাতে হবে। শিশুর বাবা এবং গার্ডিয়ান বাকি যারা আছেন, তাদের আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। সে অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। তিনি আরও বলেন, তার চিকিৎসাটা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ট্রিটমেন্টের সঙ্গে সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিংও দরকার।’
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মিসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল ঢাকায় হওয়ায় এখানে মামলা গ্রহণ বা কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় তানিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্তার নাম রাসেল এবং গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার সুবনা।
