১৭ নম্বর ওয়ার্ড
চসিকের রাস্তার জায়গা দখলে মরিয়া কে এই আইয়ুব
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রিশ বছর ধরে যে সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করছে এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণও করছে, হঠাৎ দুই বছর আগে সেই সড়কের কিছু অংশ দাবি করে নিরাপত্তা দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের চোখ রাঙানি এবং এলাকার শত শত লোকের দাবিকে তোয়াক্কা না করে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তি রীতিমতো প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট দলবল নিয়ে দেওয়ালটি ভেঙেও দিয়েছেন। তারা চলে যাওয়ার পর তিনি আবার সেই দেওয়াল তুলেছেন। কৌশল করে লোকটি সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছেন। ভূমি অফিসের এক প্রতিবেদনেও জায়গাটি রাস্তার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় শত শত লোক প্রতিদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়ার আবদুল লতিফ বাইলেন সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। দেওয়াল তোলায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বরাবর ভুক্তভোগীদের পক্ষে হুমায়ুন কবির ভুঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ দিয়েছেন। পরে করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে দখলবাজের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম গিয়ে রাস্তার ওপর নির্মিত দেওয়াল ভেঙে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে রাস্তার সংস্কারকাজ করতে গেলে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে বাধা দেন আইয়ুবের লোকজন। আইয়ুবের মামলার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রেট রাস্তার বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে চট্টগ্রাম সদর সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুমা আক্তার কণা ২৭ জুন একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে আইয়ুবের দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনের পর ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুনরায় সড়কটিতে সিসি ঢালাই করার পাশপাশি নালার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে চলাচলের পথ আরও সহজ করে দেন। কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে করপোরেশনের টিম চলে যাওয়ার পর আইয়ুব ও তার লোকজন পুনরায় সেই রাস্তার পিচ তুলে ফেলেন। খুলে ফেলেন নালার স্ল্যাব। পরে আইয়ুব সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে আবারও মামলা ঠুকে দেন। এবার মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয় স্বয়ং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রকেও। আদালতে বিবাদীদের প্রতি সমন জারি করে ১৮ নভেম্বর জবাব দিতে নির্দেশ দেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁতী দলের এক নেতার প্রভাব খাটিয়ে আইয়ুব তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বারবার রাস্তাটি বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে থাকে। জানা যায়, আইয়ুব একজন সিএনজি গ্যারেজের মিস্ত্রি হলেও রহস্যজনকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক বনেছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আইয়ুব যুগান্তরকে বলেন, ‘জায়গাটি আমার নিজের দলিলি সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে কর-খাজনা দিয়ে আসছি। সড়কটি কেবল আমার জায়গায় যাওয়ার জন্য ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু কিছু লোক মেয়রকে বিভ্রান্ত করে সড়কটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করে সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পাঁয়তারা করছেন। তাই সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধেও মামলা করেছি। মামলায় কোনো ধরনের তথ্য গোপন করিনি।’
