Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

শিবিরের ‘গুপ্ত’ সন্দেহ

রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

Advertisement

Icon

রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক শিক্ষার্থীকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত’ সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেছেন, ওই শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের হেনস্তা করা হয়নি।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আসিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, হলে সিট দেওয়ার কথা বলে তার মুঠোফোন নিয়ে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য খোঁজা হয়। পরে তাকে ‘শিবিরের গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ, হেনস্তা ও মারধর করা হয়। সোমবার রাতে জোহা হলে এ ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে মোহাম্মদ আসিফের বক্তব্য সংক্রান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে ওই হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে হল শিবিরের সভাপতির কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন।

ওই ভিডিওতে মোহাম্মদ আসিফ বলেন, তিনি কয়েকবার হল প্রাধ্যক্ষের কাছে সিটের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পরে ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছাত্রদল করলেই সিট দেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয়। সিটের আশায় তিনি ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে রাজি হন। আসিফ বলেন, পরে ফুয়াদের কক্ষে গেলে তাকে একটি গ্রুপে যুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে তার মুঠোফোন নেওয়া হয়। ফোনের বিভিন্ন বিষয় দেখার পর তাকে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকার এবং ‘শিবিরের গুপ্ত’ হিসাবে হলে আসার অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে আসেন। তারা তাকে গণরুমে নিয়ে মারধর করেন। আসিফ আরও বলেন, তার মুঠোফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। তার কাছ থেকে বিভিন্ন কথা বলিয়ে এবং লিখিয়ে নেওয়া হয়। পরে একটি কাগজে তার স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান (ফুয়াদ) বলেন, আসিফ প্রায় তিন মাস ধরে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিলেন। তিনি যে সিটে ছিলেন, সেটি অন্য একজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যার কথা জানালে তাকে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছিল।

মেহেদী হাসানের দাবি, ওই শিক্ষার্থী আগে শাখা শিবিরের ওয়ালফেয়ার ভবনে সাত মাস অবস্থান করেছিলেন। তাকে হল ছাত্রদলের গ্রুপে যুক্ত করার জন্য তার ফোন হাতে নেওয়ার পর হল শিবিরের সভাপতি রাফসানের সঙ্গে তার কথোপকথন দেখতে পান তিনি। তিনি হল শিবিরের সভাপতির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে নিজে থেকেই ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। গোপনে তিনি ছাত্রদলের তথ্য শিবিরকে দেওয়ার কথাও শিবির সভাপতিকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে জানিয়েছেন।

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। আসিফকে ব্যবহার করে ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানায়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, জড়িত ছাত্রদল নেতাদের শাস্তি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

আসিফের শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই।

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আল-আমিন সরকার বলেন, রাত ৩টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের তার কার্যালয়ে নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে-এমন কিছু তাকে জানানো হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করলে সেও মারধরের কথা অস্বীকার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের এবং প্রাধ্যক্ষের বক্তব্য শুনেছি। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তবে এখনো সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বক্তব্য আমরা শুনতে পারিনি। তাই প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য অবশ্যই তার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি তদন্তের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম