কুমিল্লায় নগর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা * আক্রান্তের ৩৩ শতাংশ দাউদকান্দিতে * অবনতি ঘটতে পারে অক্টোবরে
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ছড়িয়ে পড়ছে নগর থেকে গ্রামগঞ্জে। সম্প্রতি এ ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় সর্বত্রই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে নগরবাসীকে সচেতন এবং ডেঙ্গুর হটস্পট শনাক্তে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। অপরদিকে মোট আক্রান্তের ৩৩ শতাংশ জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। ওই উপজেলা সদরের দোনারচরকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন। এক মাসে আগের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এ পর্যন্ত জেলায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাসাবাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি থেকে শুরু করে ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র-যে কোনো ছোট জলাধারই হতে পারে এ মশার প্রজননস্থল।
সূত্র জানায়, শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে এডিস মশার উপস্থিতি এবং ডেঙ্গু রোগী। তাই জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দাউদকান্দি উপজেলার দোনারচর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখার কারণে ওইসব পাত্রে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিয়েছে। সেখান থেকে বাসিন্দাদের মাঝে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় মোট আক্রান্তের ৩৩ শতাংশ রোগী দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। মূলত সচেতনতার অভাবেই সেখানে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী (৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা) নুরজাহানের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নগরীর নবজাতক স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াজিহা নামে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ঘটনায় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে যারা ভর্তি হচ্ছে, তাদের যথাযথভাবে সেবা প্রদান করছি। তিনি বলেন, এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস না হলে নতুন করে জন্ম নেবে মশা, বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাই মিলে সচেতন হতে হবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গুর হটস্পট খুঁজে বের করার কাজ চলছে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও যেন পানি জমা না থাকে, কোনো টায়ার বা টবের মধ্যে দীর্ঘদিন যেন পানি জমা না হয়ে থাকে। আমাদের আঙিনা, ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। কুমিল্লার জেলা সিভিল সার্জন মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য জেলার সব হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

