Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থান

সাড়ে ৫ বছর পর বাড়ল টাকার মান

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে টাকার মান অবমূল্যায়নের ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। টাকার মান কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গড়ে টাকার মান বেড়েছে দশমিক ০৬ শতাংশ। আর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মান বেড়েছে দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর আগে ২০২০ সালে সর্বশেষ ডলারের বিপরীতে টাকা কিছুটা শক্তিশালী হয়েছিল। ওই সময়ের পর ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সাড়ে ৫ বছরের বেশি টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। ওই সময়ে টাকার মান কমে ৩৮ টাকা ২০ পয়সা বা ৪৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যায়; যা সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। কমে যায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এতে স্বল্প ও মধ্য-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে। দেশের বৈদেশিক দেনার দায় বেড়ে যায়। সব মিলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দাম কমে দাঁড়ায় ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। ওই এক বছরে ডলারের দাম কমে ১০ পয়সা এবং সমপরিমাণ টাকার মান বাড়ে। অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছিল দশমিক ১২ শতাংশ। ওই সময়ে করোনার সংক্রমণের কারণে আমদানি কম হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্যের দাম কম ছিল। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছিল। যে কারণে ডলারের দাম কমেছিল, বেড়েছিল টাকার মান। করোনার সংক্রমণের হার কমলে ২০২১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে, পাশাপাশি আমদানিও বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে এসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এর প্রভাব শেষ না হতেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করলে ফের অস্থিরতা শুরু হয়। এসবের প্রভাবে সাড়ে ৫ বছর বাংলাদেশে ডলারের দাম বেড়েছে, কমেছে টাকার মান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষে ডলারের দাম বেড়ে দাড়ায় ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। ওই সময় ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছিল ১ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ার কারণে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় কমে যায়। এর প্রভাবে ডলারের সংকট দেখা দেয়। ফলে দেশে ডলারের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ওই বছরের ডিসেম্বরে ডলারের দাম বেড়ে ১০৫ টাকা ৮৫ পয়সায় ওঠে। ওই বছর ডলারের দাম বাড়ে ২০ টাকা ৫ পয়সা বা ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ ওই হারে টাকার মান কমেছে। এরপর থেকে টাকার মান কমার প্রবণতা কিছুটা কমে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ডলারের দাম আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১১০ টাকা। ওই বছরে ডলারের দাম বাড়ে ৪ টাকা ১৫ পয়সা, যা ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ ওই হারে টাকার মান কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডলারের দাম আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ টাকা। ওই বছরে ডলারের দাম বাড়ে ১০ টাকা বা ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ টাকার মান ওই হারে কমেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডলারের দাম আরও বেড়ে ১২২ টাকা ৩৩ পয়সায় ওঠে। ওই বছরে ডলারের দাম বাড়ে ২ টাকা ৩৩ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ ওই হারে টাকার মান কমেছে। কিন্তু গত বছরের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেনি। বরং বেড়েছে দশমিক ০৬ শতাংশ। আবার চলতি বছরের ৩০ আগস্ট ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা উঠেছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তা কমে ১২৩ টাকায় নামে। ফলে আলোচ্য সময়ে টাকার মান বেড়েছে ৯৫ পয়সা বা দশমিক ৭৭ শতাশ।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত বছরের জুন ও জুলাইয়ে টাকার অবমূল্যায়নে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। এখন টাকা শক্তিশালী অবস্থানে ওঠে এসেছে। তবে ভারতীয় মুদ্রা রুপি এখনো অবমূল্যায়নের ধারায় রয়েছে। গত বছরের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। একই সময়ে শ্রলীংকার মুদ্রা রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ১০ শতাংশের বেশি। ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপাইয়ার মান কমেছে ৯ শতাংশ। একই সময়ে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ও চীনের মুদ্রা ইউয়ানের মান বেড়েছে ৪ শতাংশ করে। আর পাকিন্তানি রুপীর মান বেড়েছে ২ শতাংশ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম