Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

আলোচনায় সেই ফেসবুক পোস্ট

জুলাইয়ে গুলির প্রতিবাদে ছুটে চলা নাহিদার ঘরেই রক্তের স্মৃতি

Advertisement

Icon

সাঈদ হাসান, কুবি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শিক্ষক নাহিদা বেগম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আন্দোলনকারীদের রক্ষায় ছুটে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। বাসায় ফিরে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। সেই শিক্ষকের ঘরে এখন শোকের ছায়া।

তিনি হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তিনি। শনিবার ১৩ বছরের এই কিশোরের লাশ উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তার মায়ের সেই চব্বিশের জুলাইয়ের ফেসবুক পোস্ট আলোচনায় এসেছে। ওই পোস্টে শিক্ষক নাহিদা কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন নাহিদা বেগম। ফিরে সেই অভিজ্ঞতা তুলে ফেসবুকে লেখেন, ‘স্পট থেকে এলাম, চোখের সামনে ছররা গুলি আর টিয়ার শেল নিক্ষেপ দেখলাম। জানি কিছু করতে পারব না। তবু আতঙ্কিত ছাত্রীদের ফোন পেয়ে দৌড়ে ছুটলাম, আহত ছাত্রদের জন্য হাতে পেস্ট নিয়ে ঘোরা ছাড়া করার কিছু ছিলও না।’

ড. নাহিদা লিখেছিলেন, ‘আমি বিপ্লব আন্দোলন করা মানুষ না। করিও নাই ওইভাবে কখনো। টিয়ার শেল চোখে মুখে লাগলে কেমন অনুভূতি হয় বুঝলাম।’

এই শিক্ষক লিখেছিলেন, ‘আজকে সম্ভবত হল ভ্যাকেন্ট হবে। এইদিকে রাস্তায়ও দুর্যোগ। নিরাপত্তার জন্যই ছাত্রছাত্রীর হল ছেড়ে দেওয়া উচিত। যাওয়ার পথে যদি কোনো ছাত্রীর খুব বেশি সমস্যা হয়, আজকের জন্য থাকার জায়গা প্রয়োজন পড়ে, আমাকে ফোন দিও। তোমাদের ডায়রিতেই নম্বর আছে।’

জুলাইয়ের সেই ঘটনার দুই বছর পর নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন নাহিদা বেগম। শুক্রবার বিকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম। ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম