Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

চিত্রাপাড়ে গোলফলে সম্ভাবনার হাতছানি

Advertisement

Icon

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট)

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চিত্রাপাড়ে গোলফলে সম্ভাবনার হাতছানি

Advertisement

চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে গোলফলে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা মিনি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছপালা আয়ের উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে নদীর দুপাড়ে জন্ম নেওয়া গোলগাছ বড় আয়ের উৎস হতে পারে। এখানকার গোল ফলের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে এ ফলের কদর শহরের লোকদের কাছে বাড়ছে বলে জানালেন অনেকে। এছাড়া গোলগাছ থেকে রস বের করে উন্নত মানের গুড় তৈরি করা সম্ভব বলেও জানালেন অনেকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। এর দুপাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রামজুড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছপালা। চিত্রার দুপাড়ে এখন যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের হাতছানি। এখানে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, গোলপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ মাথা তুলে জানান দিচ্ছে নতুন বনের উপস্থিতি। বিশেষ করে এ বনে গোলগাছের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে এসব গাছে ঝুলছে গোল ফলের কাঁদি এ ফলের কাঁদি থেকেই রস বের করে উন্নত মানের গুড় করা সম্ভব। এটি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় গোলের গুড়ের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জেলার শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে গোলগাছের গুড় তৈরি করে। চিত্রাপাড়ে অসংখ্য গোলগাছ থাকায় এখানকার লোকজনও গোলফল থেকে গুড় তৈরিসহ এ বন থেকে বাড়তি অর্থ আয় করতে পারেন বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা। বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির জানান, চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছপালা। পাশাপাশি এখানকার গোলগাছ থেকে গুড় তৈরিসহ নানাভাবে উপার্জন করা সম্ভব। এখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, গোলফল অনেকের কাছে খুবই প্রিয় খাবার। তালের আদলে এর ভেতর শাস রয়েছে এটি খেতে ভিন্নতর স্বাদ পাওয়া যায়। এছাড়া এর থেকে খাঁটি রস বের করে পরিবেশসম্মত গুড় তৈরি করা সম্ভব। সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ অঞ্চলে কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের গুড় তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখানকার চাষিরা যদি কেউ বাণিজ্যিকভাবে গোল থেকে গুড় তৈরি করতে চান তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করা হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম