মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময়
ভোটার হচ্ছেন রোহিঙ্গারা
Advertisement
হাসান তারেক মুকিম, রামু (কক্সবাজার)
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের রামুতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিক সাজিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথিতে রামুর বিভিন্ন ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত ১২ জনের নতুন ভোটার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৬৬, ৪৪, ৪৩ ও ৪১ বছর বয়সি ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দাবি, নথিতে স্থানীয় বাসিন্দা হিসাবে উল্লেখ থাকা কাউকে তারা চেনেন না।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, ঈদগড় ও গর্জনিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঠিকানা ব্যবহার করে এসব ব্যক্তিকে ভোটার করা হয়েছে। খুনিয়াপালংয়ের পেঁচারদ্বীপের বাসিন্দা হিসাবে নুর হোসাইন (৬৬), দক্ষিণ মিঠাছড়ির বলিপাড়ার ফাতেমা বেগম (৪৪), মোক্তার বাপেরপাড়ার ইসমত আরা সুলতানা (২৬), পূর্ব পানেরছড়ার ফয়সাল (২৬) ও সিরাজুল মোস্তাফা (২২), ঈদগড়ের করলিয়ামোরার মুনতাহা (২৫), ছগিরাকাটার খালেদা আক্তার (২৮) ও রফিক (২৩), চরপাড়ার রবিদা (৪১), নয়া পাড়ার রেহেনা হেলাল (৪৩), করলিয়ামোরার রবিদা (৪১) এবং গর্জনিয়ার ফকিরপাড়ার বাসিন্দা হিসাবে জাবেরের (৩২) নাম রয়েছে।
এ ব্যাপারে রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সিকদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম সোহেল ও শাকের আহমদ বলেন, ভোটার তালিকায় যাদের নাম দেখা গেছে, তাদের কাউকেই আমরা চিনি না। এমনকি তাদের আগে কখনো দেখিনি। তাদের অভিযোগ, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এসব রোহিঙ্গা স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে যোগসাজশ করে থাকতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রামুতে অবৈধ পন্থায় প্রতিবছর শত শত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি ভোটার করা হচ্ছে। একজনকে ভোটার বানাতে নেওয়া হচ্ছে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এর একটি অংশ নির্বাচন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। এ ব্যাপারে সূত্রগুলোর অভিযোগ, রামু উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদ এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় করেন। আবেদনকারী সংগ্রহ, কাগজপত্র তৈরি ও ভোটার নিবন্ধনের বিভিন্ন ধাপে তার ভূমিকা রয়েছে। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহজনক এসব ভোটারের জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়, ঠিকানা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যয়ন আবারও যাচাই করা হোক। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ জানান, রোহিঙ্গাদের ভোটার করা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনি স্বচ্ছতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। অর্থের বিনিময়ে যারা তাদের নাগরিক সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
