Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

চিকিৎসক-নার্স সংকটে সেবার মান তলানিতে

মহানগর শিশু হাসপাতাল নিজেই ‘রোগী’

Advertisement

মো. জহিরুল ইসলাম

মো. জহিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মহানগর শিশু হাসপাতাল নিজেই ‘রোগী’

ছবি: যুগান্তর

Advertisement

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ থানার গৌর সুন্দর রায় লেনে অবস্থিত মহানগর শিশু হাসপাতাল একসময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের চিকিৎসায় ভরসার কেন্দ্র ছিল। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত একশ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মাত্র ১০ টাকার টিকিটে ২৪ ঘণ্টা জরুরি, বহির্বিভাগ ও ইনডোর চিকিৎসাসেবা মিললেও বছরের পর বছর নানা সংকটে হাসপাতালটি নিজেই এখন ‘অসুস্থ’। চিকিৎসক, কনসালট্যান্ট, সার্জন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, আবাসিক চিকিৎসক, নার্স ও অন্য জনবলের সংকট নিয়ে কোনোরকম সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শূন্য পদে নিয়োগ না হওয়া ও প্রশাসনিক অবহেলায় হাসপাতালটির এই দুরাবস্থা।

২০১৪ সালের আগ থেকেই সার্জারি বিভাগ ও ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে ইনডোর সেবা বন্ধ রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত শিশু বিশেষজ্ঞ, আইসিইউ ও পূর্ণাঙ্গ ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকার অপারেশন থিয়েটার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত শিশু চিকিৎসার আশায় ভিড় করলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত চারতলা হাসপাতাল ভবন। এখানে বহির্বিভাগ, তিনটি অপারেশন থিয়েটার, ডিজিটাল প্যাথলজি ল্যাবসহ শিশু চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। তবে জনবলের অভাবে অধিকাংশ অবকাঠামোই অকার্যকর। এক যুগের বেশি সময় ধরে সার্জারি বন্ধ থাকায় অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রাতের ইনডোর চিকিৎসা না থাকায় গুরুতর রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীরা রাত ৮টা পর্যন্ত ওয়ার্ডে থাকতে পারেন। পরে বাসায় ফিরে পরদিন সকালে আসতে হয় তাদের। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালটি চালুর পর প্রায় ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৭৩ জনে নেমেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ডিএসসিসির আওতাধীন অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। ছয়জন কনসালট্যান্টের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) ও আবাসিক সার্জনের (আরএস) দুটি পদই শূন্য। মেডিকেল অফিসার ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার মিলিয়ে ১৩ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ছয়জন। ৩০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন এবং মেট্রনের (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সার্জারি কনসালট্যান্ট ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট না থাকায় সার্জারি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশুদের জরুরি ও জটিল চিকিৎসাসেবা এখানে পাওয়া যায় না।

বর্তমানে হাসপাতালটির জন্য শুধু বহির্বিভাগ পরিচালনার বাজেট রয়েছে। প্রতিদিন ২৮০ থেকে ৩৫০ শিশু এখানে জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসে। অধিকাংশ ওষুধ বিনামূল্যে পেলেও জটিল ও রাতের রোগীদের অন্য হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা ইসলামবাগের জুপসি বলেন, শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত এখানে আসি। ২৪ ঘণ্টার ইনডোর সেবা না থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে। লালবাগ শহীদনগরের গোলাপ জান বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নাতির চিকিৎসা ১০ টাকার টিকিটে হয়। কিন্তু জটিল হলে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়।

২৪ ঘণ্টার ইনডোর ও জরুরি সেবা চালু এবং উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ও কনসালট্যান্ট প্যাথলজিস্ট ডা. হামিদা খাতুন বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে এখানে যোগ দিই। আগে ১৫-১৬ জন চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও সীমিত ডে-কেয়ার সেবা চালাতে হচ্ছে।

তার ভাষ্য, জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এ হাসপাতালকে আবারও ২৪ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা সম্ভব। ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, জনবল নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চিকিৎসক-নার্স সংকটে সেবার মান তলানিতে মহানগর শিশু হাসপাতাল নিজেই ‘রোগী’

মহানগর শিশু হাসপাতাল নিজেই ‘রোগী’

বাকৃবি গবেষকের সাফল্য প্লানটেইন ঘাস খাইয়ে ব্রয়লার মাংস উৎপাদন

প্লানটেইন ঘাস খাইয়ে ব্রয়লার মাংস উৎপাদন

রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো মরিয়মকে

বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো মরিয়মকে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং ইস্যুতে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের মারামারি

র‌্যাগিং ইস্যুতে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের মারামারি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম