মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার চেষ্টা খুবি শিক্ষার্থীদের ওপর
Advertisement
খুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সজল নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হিসাবে পরিচয় দেন। পোস্টটির সত্যতা ও ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থী তাকে খাজা গেট এলাকায় ডেকে আনেন।
এ বিষয়ে আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল বলেন, ফেসবুক পোস্টের ঘটনা নিয়ে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কথা বলতে গেলে সেখানে স্থানীয় দুই-তিনজন মুরুব্বি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের খাজা গেটে আসতে বলা হলে অভিযুক্ত যুবকসহ তারা এখানে আসেন। খাজা গেটে বসার পর কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থাকা দুজন হুট করে ওই যুবককে মারধর করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে পরে সেখানে বাইরের কিছু লোকজনকে নিয়ে আসা হয়। ওই ব্যক্তিকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আসা লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া সজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, মসজিদের মাইকে এ ধরনের ঘোষণা কারা দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।
থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
