বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান
এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। কর্মসূচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এনসিটি, সিসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানি না। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারও আমাদের কথা শুনতে বাধ্য হয়েছে। এবারও আমরা আন্দোলন গড়ে তুলব। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না।’
বন্দর ভবনের সামনে সোমবার সকাল ১১টায় ওই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুপুর ১টায় তা শেষ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তপন দত্ত।
এদিকে অবস্থান কর্মসূচি শেষে ১৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্দর রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে ওই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে তপন দত্ত বলেন, ‘ক্ষমতায় এসেই যদি আপনারা শ্রমিকের বিরুদ্ধে যান, বন্দর ও এনসিটি দিতে শুরু করেন, এতে আমাদের কষ্ট হয়। এই এনসিটির টাকা দিয়ে পায়রা হয়, বে-টার্মিনাল হয়, মাতারবাড়ি হয়, পানগাঁও হয়। এটা তো দুধেল গাই। এটা কেন কেটে খাব আমরা।’
শ্রমিক দলের বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘আমাদের চলমান আন্দোলন কোনোভাবেই সরকারের বিরুদ্ধে নয়। যারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করছে, আমাদের আন্দোলন তাদের বিরুদ্ধে। আমরা আশঙ্কা করছি, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দর ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই দ্রুত এই বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার চাই।’
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, ‘৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে আমরা শুনেছি। যদি তাই হয়, তাহলে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।’
পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বন্দর ইজারা দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। বন্দর পরিচালনা ও এর বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে না জেনে কেবল বিদেশি বিনিয়োগের যুক্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন-বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম; সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ, গণমুক্তি ইউনিয়নের সম্বয়ক রাজা মিয়া, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ।
