বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে
গড় খরচ ১.৭৮ থেকে বেড়ে ১.৮২ শতাংশে উঠেছে * বিদেশে দেশি ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ খোলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এ খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক। বিদেশি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সেবার খরচ বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স পাঠাতে বিদেশের নানা ধরনের ফি বা কর আরোপের কারণে এ খরচ বেড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণেও এ খাতে খরচ বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হতো ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাঠাতে খরচ হচ্ছে গড়ে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে এ খাতে খরচ বেড়েছে দশমিক ০৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ১ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হতো ১৭ দশমিক ৮০ ডলার। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ খরচ হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ ডলার। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে দশমিক ৪০ ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়লে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঝোঁক বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগেই সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা যেতে পারে। বিদেশে এখনো প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা খুব সীমিত। এটি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশি ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা হলে এ খাতে খরচ কমানো সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠাতে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে একই সময়ের ব্যবধানে খরচ সামান্য কমে দশমিক ৯৬ থেকে দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে। ৫০০ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ একই সময়ে সামান্য বেড়ে দশমিক ৪৯ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ বেশি, বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ কম হচ্ছে।
জানা যায়, বেশির ভাগ দেশ থেকেই ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে কমেছেও। কমার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর। বাড়ার তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, ইতালি, ওমান ও যুক্তরাজ্য। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিকভাবে বেশির ভাগ দেশ থেকেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে ২০০ ডলার থেকে যে কোনো অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ছিল গড়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা বেড়ে ২ দশমিক ২৭ শতাংশে ওঠে। একই সময়ের ব্যবধানে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে খরচ ২ দশমিক ৭৫ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৯২ শতাংশে উঠেছে। মালয়েশিয়া থেকে খরচ ১ দশমিক ০৪ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। কাতার থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ একই সময়ে ১ দশমিক ২২ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৮, ইতালি ১ দশমিক ১৪ থেকে ১ দশমিক ২৭, ওমান ১ দশমিক ৩৯ থেকে ১ দশমিক ৪০ এবং যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়ে ১ দশমিক ১৮ থেকে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশে উঠেছে।
অবশ্য কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমেছে। এর মধ্যে কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ একই প্রান্তিকে ১ দশমিক ৬১ থেকে কমে ১ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ দশমিক ৩৩ থেকে কমে ১ দশমিক ১১ শতাংশ হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি কমেছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে পাঠাতে গড়ে খরচ হতো ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমেছে। এর বাইরেও অনেক দেশ থেকে রেমিট্যান্স আসছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দেশ থেকেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে।
এদিকে দেশের ভেতরের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পাঠানোর খরচ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের ভেতরে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কিছুটা কমেছে।
