Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

৬৫ মণ ওজনের ‘বাংলার বস’ ৫০ লাখ টাকা

মনিরামপুরে গরু দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়

Advertisement

Icon

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

‘বাংলার বস’ দাম হাঁকিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু দাবি খামারি আসমত আলী গাইনের।

ব্যাপারীরা গরুর দাম ৩০ লাখ টাকা হাঁকালেও তিনি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাংলার বস, বাংলার সম্রাট ইত্যাদি নামের গরু পালন করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। গরু দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

২৫ বছর ধরে তিনি মীম ডেইরি ফার্মে দুধের গাভী পালন করে আসছিলেন। শখের বশে তিনটি উন্নত জাতের এঁড়ে গরু কিনে সুষম খাদ্য, উপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা করে সফল হয়েছেন। তার দাবি ‘বাংলার বস’ নামের গরুটির ওজন প্রায় ৬৫ মণ। খামারি আসমত আলী গাইন উপজেলার হুরগাতি গ্রামের মৃত রজবালী গাইনের ছেলে। অবশ্য গরু পালনে আকাশচুম্বী এ সফলতায় উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো সহায়তা পাননি বলে আসমতের অভিযোগ। সরেজমিন হুরগাতি গ্রামে হাসমতের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরষের ভিড় চোখে পড়ে। এগিয়ে যেতেই জানা গেল উৎসুক জনতা আসমতের গরু দেখতে এসেছেন। খামারি আসমত আলী গাইন জানান, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত লোক এ গরু দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন। বাংলার বস নামের ষাঁড়টি ব্রিটিশ ফ্রিজিয়ান জাতের। গেল কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে যশোরের নিউমার্কেট এলাকার হাইকোর্ট মোড়ের জনৈক মুকুলের কাছ থেকে বাংলার বস ১৭ লাখ টাকায় কিনেন। আর বাংলার সম্রাট কেনেন ৮ লাখ টাকায়। দানাদার ও লিকুইড খাদ্য হিসেবে খৈল, গম, ভুট্টা, বুট ও ছোলার ভুসি, চিটাগুড়, ভিজানো চাল, খুদের ভাত, খড়, নেপিয়ার ঘাস ও কুড়া মিলে দিনে দু’বার মোট ৮০ থেকে ৯৫ কেজি খাদ্য খাওয়ানো হয়।

এছাড়া তিনি প্রশিক্ষণ নেয়ায় নিজেই তার গরুর চিকিৎসা দেন। এ সময় আসমত আলী ‘বাংলার বস’ গরু নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তিনি নিশ্চিত দেশের মধ্যে এযাবৎকালের মধ্যে সব থেকে বড় এবং এর ওজন এখন ২৬শ’ কেজি অর্থাৎ প্রায় ৬৫ মণ। এ ওজনের গরু বা ষাঁড় এর আগে বাংলাদেশে কখনও হয়নি বলে তার দাবি। আসমত বলেন, এ পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো সহযোগিতা এমনকি কোনোদিন তারা খামার পরিদর্শন করেনি।

পাশের উপজেলা অভয়নগরের সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি তার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুনে গরু দেখতে গেছেন। এমন হাতির মতো গরু তারা জীবনে কখনও দেখেননি। ভোজগাতি গ্রামের সালাম বিশ্বাস বলেন, তার ৮০ বছর বয়সে এত বড় গরু দেখেননি। একই কথা জানান, গরু দেখতে আসা উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আমিনপুর গ্রামের শাহেরা বেগম, জয়পুর গ্রামের আকতার আলী। তবে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি খামার বড় করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে দাবি করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার আবুজার সিদ্দিকী বলেন, এত বড় গরুর বিষয়ে তিনি শুনেছেন। তিনি না যেতে পারলেও অফিসের লোকজনের সঙ্গে ওই খামারির নিয়মিত যোগাযোগ হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম