Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

শিক্ষার্থীদের বিপদের বন্ধু ‘ঢাবি নিরাপত্তা মঞ্চ’

Icon

মাহাদী হাসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহসান প্রামাণিকের গ্রামের বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাদ চলছিল। এক দুপুরে হঠাৎ জমি দখলের জন্য আহসানের বাড়ি ঘিরে ফেলে তার প্রতিবেশী। কোনো উপায় না পেয়ে সাহায্য চেয়ে ফোন করেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চে’ আর সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যান স্থানীয় পুলিশের সাহায্য। ঢাবি শিক্ষার্থী রুমান মিয়ার (ছদ্ম নাম) বাড়ি টাঙ্গাইল। মে মাসে স্থানীয় এক বখাটে তার বোনকে তুলে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের সঙ্গে বখাটের যোগাযোগ থাকায় পুলিশ প্রথমে অসহযোগিতা করে। পরে নিরাপত্তা মঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় এমপির সাহায্য নিয়ে ২ ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বোনকে উদ্ধার করা হয়।

২০২০ সালে টাঙ্গাইলে এক ঢাবি শিক্ষার্থীর খুনের ঘটনায় একটি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভবের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল সংসদের সাবেক জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার গড়ে তোলেন ‘ঢাবি নিরাপত্তা মঞ্চ’। আর একই বছরের ২১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ‘ঢাবি নিরাপত্তা মঞ্চ’ জমিসংক্রান্ত বিষয়ে আইনি সহায়তা, আত্মহত্যাপ্রবণ শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশ করে হুমকি দিয়ে ব্লাকমেইল হওয়া শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্র্থীদের খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা কিংবা অর্থ সহায়তা করে আসছে। সব ধরনের আইনি সহায়তাসহ সাহায্য চাওয়া প্রায় ২৮৬ জন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর সমস্যার সমাধান করেছে সংগঠনটি। ফলে ক্যাম্পাসে এখন শিক্ষার্থীদের বিপদের বন্ধু হিসাবে পরিচিত সংগঠনটি।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সাবেক জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, বৈচিত্র্যের মাঝে যে ঐক্য, সেই ঐক্য সবচেয়ে সুন্দর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা দলের, নানা মতের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই বৈচিত্র্যের মাঝেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম করেছি যার নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চ’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাজনিত ছাড়াও বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমরা ঢাবি পরিবার একে অপরের পাশে থাকা কর্তব্য বলেও মনে করছি।

কেন এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন অনুভব করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে সিজার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিংসা ও পরশ্রীকাতরতার শিকার হন। করোনাকালে এটি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২০ সালের ১৯ জুন টাঙ্গাইলে একজন ঢাবি শিক্ষার্থীর খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিই। ২১ জুন থেকে এর কার্যক্রম শুরু করি। ধর্ম কিংবা দলীয় পরিচয় নয় বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়কে আমরা প্রধান এবং শ্রেষ্ঠ পরিচয় বলে মনে করি।

কারা এই সংগঠনে কাজ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রায় ১১ জন শিক্ষার্থী এখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাহায্য করছেন।

এদিকে নিরাপত্তা মঞ্চের কর্মকাণ্ডে খুশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা মঞ্চ প্রতিষ্ঠার আগে বিভিন্ন সমস্যায় সাহায্য পাওয়ার আশায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো আর অধিকাংশ সময়ই খালি হাতে ফিরতে হতো। কিন্তু এখন নিরাপত্তা মঞ্চে একটা ফোনের মাধ্যমেই যে কোনো ধরনের সমস্যায় সাহায্য পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে আমি নিরাপত্তা মঞ্চ নিয়ে গর্ববোধ করি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম