তরুণ উদ্যোক্তা
৫০ দেশে সেবা দিচ্ছে নাসিমের ‘টেকফ্লিক্স’
Advertisement
তানজিমুল হক, রাজশাহী
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একবিংশ শতাব্দীতে ব্যবসা-বাণিজ্য আর জ্ঞান-বিজ্ঞান সবকিছুতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া। বদলেছে ব্যবসার ধরন ও বিপণন প্রক্রিয়া। এ পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। একে কাজে লাগিয়ে চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করে অনেকেই গড়ছেন নিজের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এমনই এক স্বপ্নবাজ তরুণের নাম। তার নাম নাসিম রানা মাসুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিুবিত্ত পরিবারে জন্ম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করেছেন বিএসসি অনার্স ও এমএসসি। অনার্স ও মাস্টার্সে সর্বোচ্চ সিজিপিএ (৩.৯১) নিয়ে হয়েছেন ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট। এক সময় দেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু এখন তিনি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করছেন।
২০০৭-০৮ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন নাসিম। পরিবারের শোচনীয় আর্থিক অবস্থার কারণে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ২০১০ সালে নাসিম লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং। শুরুতে বড় জোর আয় হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা। এক বছর যেতে না যেতেই নাসিমের মাসিক আয় দাঁড়ায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। তখন থেকেই আইটি সেক্টরে কাজ করার পরিকল্পনা করেন নাসিম। বর্তমানে তার মাসিক আয় দুই লাখ টাকার বেশি।
নাসিম ২০১৮ সালে রাজশাহী মহানগরীতে একজন কর্মচারী নিয়ে শুরু করেন ‘গ্রিন আইটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এক বছর পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘টেকফ্লিক্স’। এরপর থেকে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখা রয়েছে। ঢাকার উত্তরায়, রাজশাহী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃত প্রতিষ্ঠানটির সেবা। আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর র্যাংকিংয়েও নাসিমের প্রতিষ্ঠান শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশে সেবা দিচ্ছে ‘টেকফ্লিক্স’।
তরুণ উদ্যোক্তা নাসিমের প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়্যার অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপ, ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন, হোস্টিং প্যাকেজ, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও অ্যাড ক্রিয়েশন, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পেমেন্ট গেটওয়ে সল্যুশনসহ আরও বিভিন্ন সেবা নিয়ে কাজ করছে। নাসিম রানা মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, অন্য ডিসিপ্লিনে পড়াশোনার কারণে প্রথম দিকে আইটি সেকশনে সমস্যায় পড়তে হতো। অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেটা কাটিয়ে উঠেছি।
