Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর

রণকাইলের পদ্ম ও শাপলার বিল

Icon

মো. শাহীন সরদার, বাকৃবি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২২, ০৬:০০ পিএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রণকাইলের পদ্ম ও শাপলার বিল

পল্লীকবি জসিমউদ্দীনের ফরিদপুরের বাড়ি তাম্বুলখানা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে রণকাইল গ্রাম। রাস্তার দুই পাশে গ্রাম আর দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ। আকাশ যেন বিশাল মাঠের উত্তর ও দক্ষিণে নেমে পড়েছে। যেখানে কৃষকের ঘামে সোনা ফলে। সোনালি আঁশ ও পেঁয়াজে ভরে ওঠে। মাঠের উত্তর দিকে বিখ্যাত অচিন গাছ। দক্ষিণপ্রান্তে প্রাচীন বটতলা। সেখানে প্রতি বছর মাঘিপূর্ণিমায় মেলা বসে। এরই মাঝে রয়েছে একসঙ্গে তিনটি বিল-হরাই, চাপাই ও রঘুয়া। এ তিনটি মিলে বিশাল জলরাশির রণকাইলের বিল। এ বিলের পশ্চিমে রণকাইল, পূর্বে ভাবুকদিয়া ও জটারকান্দি, উত্তরে ফুরসা গ্রাম।

বর্ষাকালে রণকাইলের বিলের বিশালতা আরও বেড়ে যায়। ভরে ওঠে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশি মাছে। বিস্তৃত জলরাশি এমনিতেই সৌন্দর্যপিপাসুদের আকৃষ্ট করে। এতে নতুন মাত্রা যোগ করে বিলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাদা শাপলা, আর গোলাপি রঙের অপরূপ পদ্মফুল। এ ছাড়া ফুটে থাকে কচুরিসহ জানা অজানা বাহারি জলজ ফুল। এ সময় দেখা যায়, বিলের পারে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত অনেকেই। পাট আর পাটখড়ি শুকাতে দিচ্ছেন। মাঠে আর বিলের পানিতে ঢেউ খেলছে বাতাস। বিলে বয়ে চলছে নৌকা। এ যেন জসিমউদ্দীনের অপরূপ পল্লী। জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলার প্রতিচ্ছবি। চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক পরিবেশ। জ্যোৎস্না রাতে নিরিবিলি বিলে পানির ঝিলিমিলি, ফুলের সৌরভ। বাতাস আর চাঁদের সঙ্গে মিতালি জমে ওঠে এখানে। মুহূর্তেই ক্লান্তি দূর করে মনে আনে প্রশান্তি।

এ বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধমে প্রকাশ পেলে বর্তমানে পর্যটকরা আসছেন এখানে। তাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফরিদপুর শহর থেকে বাসে কানাইপুর নেমে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই রণকাইল বিলের রাস্তা দেখিয়ে দেবেন। ফরিদপুর থেকে কানাইপুর আসতে ভাড়া লাগবে ২০ টাকা। কানাইপুর থেকে রণকাইল ২০ টাকা। রণকাইল স্কুলের রাস্তা দিয়ে চাপাই বিল ও পাকুরপাড়া থেকে হরাই বিলের দিকে রাস্তা হয়েছে। বিল ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে স্থানীয় জেলেদের নৌকায়। জনপ্রতি ভাড়া ৪০ টাকা। সবার সুবিধার জন্য এ ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন। রণকাইল গ্রামের মুন্নু সরদার জানান, কিছু সুন্দর সময় কাটানোর জন্য এ বিল হতে পারে আদর্শ জায়গা। এতবড় মাঠ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিল আমি কম দেখেছি। স্থানীয় বিষ্ণু মাঝি বলেন, ছোটবেলা থেকেই এ বিলে বেড়ে উঠেছি। একেক ঋতুতে একেকরূপে সাজে এ বিল। তবে স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, বিলের অস্তিত্ব, সৌন্দর্য ও জলজ সম্পদ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দরকার। কারণ, অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বিলের পাশের পুকুর ও নিচু জমি ভরাট করছেন অনেক মালিক। এসব অবৈধ ড্রেজিং দ্রুত বন্ধ করে সরকারিভাবে পরিকল্পনা নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য বাড়াতে হবে আরও সুযোগ সুবিধা।

পদ্ম ফুল শাপলা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম