Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

শিক্ষক নির্যাতন ও জোরপূর্বক পদত্যাগ

অস্থিরতা কাটছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

Advertisement

Icon

হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অস্থিরতা কাটছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

Advertisement

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চেয়েও আন্দোলন ও রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলে নানা অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছেন কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী। পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে শিক্ষকদের নির্যাতন ও পদত্যাগে বাধ্য করছেন তারা। ছোট-বড় যে কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে আন্দোলনও গড়ে তুলছেন তারা। নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এসব শিক্ষার্থী। এছাড়া পরীক্ষা পেছানোসহ নানা অযৌক্তিক দাবিও রয়েছে তাদের। শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয় কিংবা ক্ষোভে-অভিমানে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিচ্ছেন অনেক আত্মমর্যাদাশীল শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে অনেক শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন। কেউ কেউ মারধরের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জোর করে পদত্যাগ করা অনেক শিক্ষক ভয়ে প্রতিষ্ঠানে আর যেতে পারছেন না। এমন অনেক শিক্ষক বেতন-ভাতাও পাচ্ছে না। এতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই চলছে এমন অস্থিরতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি কোনো শিক্ষক অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাকে আইনানুগভাবে বিচার করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই ছাত্ররা শিক্ষককে নিগৃহীত বা অপমান করতে পারে না। শিক্ষকদের শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ছাত্রদের নয়; এজন্য রয়েছে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকা উচিত, কারণ শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকের মর্যাদা এভাবে ধ্বংস করা মানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করা বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ বলছেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দলদাশ ও দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমনকি ক্লাস ও পরীক্ষা থেকেও মনোযোগ হারাচ্ছেন তারা। এতে পড়াশোনাবিমুখ এক জাতি তৈরি করছেন তারা। একই সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামের অস্থিরতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে সেশনজট। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তারা।

বৃহস্পতিবার ইউজিসি কর্তৃক বাজেট বৃদ্ধি, আবাসন ভাতা, হল নির্মাণ ও জকসু রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে (উপাচার্য ভবন) তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৭ মে) শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সুচিতা শরমিনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা তার সরকারি বাসভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, অবিলম্বে ভিসি পদত্যাগ না করলে অনশনসহ বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলে কর্মসূচি ছড়িয়ে দিয়ে অঞ্চল অচল করে দেওয়া হবে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) দীর্ঘ আন্দোলনের পর উপাচার্য পদে পরিবর্তন এলেও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪ মে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের কারণে এখনো কোনো শ্রেণির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে সেশনজটসহ নানা সংকটে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

২৬ এপ্রিল রাতে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) উপাচার্য, অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধানরা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। ফেসবুকেরে এক পোস্টে ইউআইইউ জানিয়েছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবির প্রতিবাদে উপাচার্য, সকল ডিন, প্রধান এবং পরিচালকরা যৌথভাবে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

ছয় দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে সারা দেশের পলিটেকনিক কলেজগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে একাডেমিক কার্যক্রম। সম্প্রতি তারা মহাসড়ক অবরোধ করে পুরো রাজধানীবাসীকে যানজটে নাকাল করেছেন। বুধবার (৭ মে) বিকালে চলমান পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষা বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার পর আবার বিদ্যালয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন। মারধরের পর পরনের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। মারধরের শিকার ওই শিক্ষকের নাম ইউনুস নবী। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভা এলাকায় বাগধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মঞ্জু মনোয়ারাকে মেরে চেয়ার গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সারা দেশে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো সহস্রাধিক শিক্ষক এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে রয়েছেন। এসব ঘটনায় ৬ জন শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতির শিকার সারাদেশে ২৪০ জন শিক্ষককের তালিকা যুগান্তরের হাতে এসেছে। এরমধ্যে ১৮৮ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১১২ জনকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না ৫৯ জন। আর জোর করে অবসরে পাঠানো হয়েছে ১৭ জনকে। এছাড়া ১৮৮ জনের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের বেতন বন্ধ রয়েছে। বেতন-ভাতা না পেয়ে তারা কষ্টে জীবন-যাপন করছেন বলেও জানা গেছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এসব শিক্ষকের সমস্যা সমাধান করার কথা বললেও বিষয়টি ঝুলে আছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, শিক্ষায় অপরাজনীতি ঢুকে পড়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো যখন রাজনৈতিক দলের লেজুড় হয়, আর শিক্ষকদের মধ্যে যখন এগুলো ছড়ায়। তখন শিক্ষকদের নৈতিক অবস্থান শিক্ষার্থীদের কাছে থাকে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই। সেখানে লেখাপড়াও ঠিকমতো হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা রয়েছে, সেদিকেও কোনো দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। সবকিছুর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। অথচ এসব ঘটনা নিয়ে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা নেই। উচ্চপর্যায় বা স্থানীয় প্রশাসন থেকে কেউ কথা বলেন না। এমনকি শিক্ষকদের সংগঠনও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেন না।

তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত। পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা উচিত। ছাত্রদের নতুন দল হয়েছে, তাদেরও এসব বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যথাসময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে এই সমস্যা সৃষ্টি হতো না।

এই শিক্ষাবিদ বলেন, এসব অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য শিক্ষকদেরও দায় রয়েছে। তারা ছাত্রদের কাছে আইডল বা মডেল হিসাবে উপস্থাপনা করতে পারেননি। তাদের নৈতিকতার জায়গায় রয়েছে দুর্বলতা। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘটনা নিয়ে সরকার বা প্রশাসনের কোনো বার্তা নেই। উচ্চপর্যায় থেকে কেউ কথা বলেন না। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের সংগঠনও কোনো কথা বলে না।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নির্যাতন ও জোর করে পদত্যাগ করা বিষয়গুলো গুরত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়গুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসছে। আমরা সব প্রতিষ্ঠানে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। শিক্ষকদের পদত্যাগের বিষয়ে যেসব অভিযোগ এসেছে, এর মধ্যে শতাধিক অভিযোগ রয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা সেসব বিষয় তদন্ত করে নির্দোষ প্রমাণ পেয়েছি, ওই শিক্ষককে স্বপদে ফিরিয়ে দিয়েছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।

জানা যায়, ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ এসএম আইয়ুবের ওপর হামলা ও জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জনপ্রিয় ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসাবে সমাদৃত ছিলেন। যার ফলে শিক্ষকের মৃত্যুর খবরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এছাড়া ৫ আগস্টের পর দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কলেজে অধ্যক্ষরা পদত্যাগ করেন। অনেককেই শিক্ষার্থীরা জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এরপর সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই সময় রাজধানীর তিতুমীর ও ইডেনসহ ২১টি সরকারি কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছর ৮ এপ্রিল দেশের ১৩৫ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৫ মে সারা দেশের ৬৭টি সরকারি কলেজে নতুন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পদ-বঞ্চিত শিক্ষক জোটের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ফাঁকিবাজ শিক্ষকের প্ররোচনায় বহিরাগত স্বার্থান্বেষী মহল স্বীয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে কর্মরত অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের অপমান, অপদস্ত, হেনস্তা ও মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে। কোথাও অপসারণ, বরখাস্ত কর্মস্থলে বাধা ও বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, প্রায় দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রায় ৫ শতাধিক আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মিথ্যা-মামলার কবলে পড়ে অনেকে জেল-হাজতে আছেন। তারা পদ-বঞ্চিত হয়ে বেতন-ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দেশজুড়ে এমন ঘটনায় বিবেকবান মানুষ বিস্মিত ও স্তম্ভিত।

Advertisement

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম