দেড় যুগ পার
অযত্ন অবহেলায় দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র
দখল হয়ে গেছে ১০ একর ভূমি * নষ্ট কোটি টাকার যন্ত্রপাতি
Advertisement
যতন মজুমদার, ফেনী
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফেনী সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় স্থাপিত দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের ১৯ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কেন্দ্র বন্ধ রাখার ফলে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়েছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। দখল হয়ে গেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১০ একর ভূমি। তবে শিগগিরই এই কেন্দ্র উৎপাদনে যাবে এমন কোনো তথ্য নেই জেলার বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের কাছে।
বিউবো ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনাগাজীর উপকূলীয় অঞ্চল মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে স্থাপন করে দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র। তখন বলা হয়েছিল সোনাগাজীতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেভ্যুলা টেকনো সলুয়েশন লিমিডেটের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ৫০ মিটার উঁচু টাওয়ার, ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর, কন্ট্রোল প্যানেল, সাবস্টেশন ও ম্যাচিংগিয়ারসহ প্রয়োজনীয় প্রায় সব সরঞ্জামই ভারত থেকে আনা হয়েছে। ফেনী নদীর রেগুলেটরের প্রায় ৫০০ গজ দূরে লামছি গ্রামে ২০০৬ সালের শেষের দিকে এ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদনও শুরু করা হয়েছিল। কিছুদিন পর বাতাসের গতিবেগ কম হওয়ায় উৎপাদন কমে গেলে কর্মকর্তারা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় এটি বন্ধ করে দেন। প্রায় ১৯ বছর পরিত্যক্ত থাকায় অযত্নে অবহেলায় কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় অনেক মালামাল নষ্ট ও চুরি হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে টাওয়ার ও অন্যান্য লোহার যন্ত্রপাতি মরিচা ধরে অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়াও সীমানা প্রাচীর না থাকায় চুরি হয়ে গেছে মোটর ও সংযোগ তারসহ অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ। একই সঙ্গে ভূমিদস্যু চক্র গত হাসিনা সরকারের সময়কালে ফেনী-২ আসনের বিনা ভোটে নির্বাচিত সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর আশীর্বাদে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূমিতে পুকুর খনন করে মাছের খামার তৈরি করে। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর এসব পুকুর এখন বিএনপি-জামায়াত নেতাদের দখলে। খামারের মাছ বিক্রি করে দখল চক্র কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন মাহমুদ শামীম ফরহাদ জানান, প্যান এশিয়া নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রটি মেরামতের কাজ করেছিল, তাও কোন কাজে আসেনি। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চার পাশের জমিতে ভূমিখেকো চক্র পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে। বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪টি টারবাইন পিলার দাঁড়িয়ে আছে মাত্র। তিনি বলেন, এটি ছিল পরীক্ষামূলক প্রকল্প। তাই এ থেকে নতুন কিছু আশা করা ঠিক হবে না।
ফেনী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন মাহমুদ শামীম ফরহাদ আরও জানান, সোনাগাজীর বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। এটি প্রধান কার্যালয়ের প্রজেক্ট হওয়ায় ঢাকা থেকে সরাসরি তত্ত্বাবধান করা হয়। তবে কিছুদিন আগে এর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। তাও কোনো কাজে আসেনি। প্রকল্প এলাকা এখন স্থানীয় মস্তানদের দখলে রয়েছে।
