যশোরে ৫ আগস্ট বাড়িতে আগুন-লুটপাট
‘হৃদরোগে’ মৃত ব্যক্তির নাম জুলাই শহীদের গেজেটে
ভিকটিম হিসাবে তার নাম সুপারিশ করা হয়েছিল-ডিসি
Advertisement
ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার একটি বাড়ির দ্বিতীয়তলায় ভাড়া থাকতেন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ওই বাড়িতে লুটপাটের পর আগুন দেয় একদল লোক। বাড়িতে আটকা পড়েন ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী-সন্তানরা। পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে ফুসফুসে ধোঁয়া ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে নেওয়া হয় শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টায় তিনি মারা যান। সেই ফিরোজ আহমেদ জুলাই শহীদের গেজেটে স্থান পেয়েছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গেজেটে ফিরোজ আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। যদিও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৫-এ ‘শহীদ’র সংজ্ঞায় পড়ে না ফিরোজ আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ অর্থ-জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।
কোন বিবেচনায় ফিরোজকে জুলাই শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ফিরোজ আহমেদ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ওইদিন তার ভাড়া বাসায় আক্রমণ হয়। তার ১৫ দিন ও ৩ বছর বয়সি দুটি সন্তান ছিল। তাদের কোনোরকমে উদ্ধার করে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তিনি হৃদরোগে মারা যান। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ভায়োলেন্সের শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের কর্মী নন, একজন ভিকটিম হিসাবে তার নাম সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির তালিকায় ২৫ নম্বরে ছিল ফিরোজ আহমেদের নাম। তার মৃত্যুর কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বার্ন’। আর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের কলামে বলা হয়েছে-ফিরোজ আহমেদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিদগ্ধ হয়ে ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেটের ৭৯৭ নম্বরে রয়েছে ফিরোজ আহমেদের নাম। তার মেডিকেল কেস আইডি ২৬১৭৯। বর্তমান ঠিকানা : পিআইও অফিস, সদর, যশোর।
কোন বিবেচনায় ফিরোজ আহমেদকে শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো, জানতে চাইলে শহীদ ও আহতদের তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছিক এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, ফিরোজ আহমেদের আবেদনটি সিভিল সার্জনের মাধ্যমে এসেছিল। তার নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কমিটির সদস্য সরকারি কর্মকর্তাদের আগ্রহ বেশি ছিল। তাদের সম্মতি থাকায় ছাত্র প্রতিনিধিরা আপত্তি করেনি। তারা নীরব ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, প্রতিনিয়তই আমরা জুলাই শহীদ ও আহতদের নাম আপডেট করেছি। ফিরোজ আহমেদের নামটি আমার সময়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটা আগের সিভিল সার্জনের আমলে করা হয়। এ বিষয়ে আমি বলতে পারব না।
এদিকে যশোর শহরের ইবনেসিনা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ইস্যুকৃত ফিরোজ আহমেদের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে-ফেইলুর ডিউ টু সার্ডেন কার্ডিয়াক ডেথ, স্মোক ইনহেলেশন।
