Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

ভূমিকম্পের শঙ্কায় দেশ

সক্ষমতা ও সমন্বয়ের অভাব দূর করতে হবে

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমিকম্পের শঙ্কায় দেশ

Advertisement

সাম্প্রতিক ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশকে আরও একবার তার প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরগুলোর লাখ লাখ বহুতল ভবনে বসবাসকারী মানুষ রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে। যে কোনো বড় দুর্যোগে, বিশেষত ভূমিকম্পের মতো পরিস্থিতিতে, উদ্ধার অভিযানের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ওপরই প্রাথমিকভাবে ভরসা করতে হয়। কিন্তু রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা একেবারেই অপ্রতুল। পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে ফায়ার সার্ভিসের জনবল মাত্র ১৪ হাজার ৫৬০ জন, যার মধ্যে ঢাকা শহরে মাত্র ১৮টি স্টেশনে আছে ৬৫০ জনবল। অথচ রাজধানীতে সাড়ে ২১ লাখের বেশি বহুতল ভবন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সীমিত জনবল ও অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা একযোগে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫টি ধসে পড়া ভবনে উদ্ধারকাজ চালাতে সক্ষম। তার ওপর, বৃহৎ আকারের কোনো ভূমিকম্প হলে অধিকাংশ দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছানো বা কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজ চালানোর ক্ষমতাও ফায়ার সার্ভিসের নেই। প্রয়োজনের তুলনায় হাইড্রোলিক কাটার, স্প্রেডার, সার্চ ভিশন ক্যামেরাসহ অত্যাবশ্যকীয় ভারী যন্ত্রপাতিও তাদের অপর্যাপ্ত।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক প্রধানদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, তারা দায়িত্বে থাকাকালে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার তৈরি ওপর জোর দিলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা জমা দেওয়া হলেও কোনো সরকার তা বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু সমস্যা কেবল ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার অভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি মেগা-ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত সরকারি পদক্ষেপ ও কার্যকর জনসচেতনতাও। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহর থেকে গ্রামে অধিকাংশ ভবন জাতীয় বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার যদি শুরুতেই বিল্ডিং কোড নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করত, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক কম হতো।

প্রশ্ন হচ্ছে, বড় ধরনের দুর্যোগ ঘটলে সমন্বিতভাবে বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হবে কিনা? স্বাভাবিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার স্ট্যান্ডার্ড অর্ডার অ্যান্ড ডিজাস্টার (এসওডি) অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীসহ সব বাহিনীর সমন্বিত কাজ করার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের পক্ষ থেকে এই সমন্বিত প্রস্তুতি ও মহড়া নিয়মিত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এছাড়া, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তাৎক্ষণিক কী করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং দুর্যোগের পর নিজের ও প্রতিবেশীর সুরক্ষার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন-এসব বিষয়ে গণসচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কাজেই প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার বৃদ্ধি করার পাশাপাশি জনগণকেও দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।

দুর্যোগের পর কেবল আন্তর্জাতিক সহায়তার আশায় বসে থাকলে চলবে না। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত অবিলম্বে ইউএনডিপির সহায়তায় দেওয়া প্ল্যান অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা এবং একইসঙ্গে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারের সংখ্যা কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লাখে উন্নীত করার জন্য বাজেট বরাদ্দ করা। ঘুম ভাঙার যে সময় এসেছে, তা বলাই বাহুল্য। ভুলে গেলে চলবে না, একটি মেগা দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হলে, এর মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকে।    

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম