বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল
দ্রুত চালুর নির্দেশ বাস্তবায়িত হোক
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের আকাশপথের প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আর যাত্রীসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের যে আক্ষেপ, তার সমাধানে ‘থার্ড টার্মিনাল’ প্রকল্পটিকে দেখা হচ্ছে একটি মাইলফলক হিসাবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টার্মিনালটি দ্রুত চালুর যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা। ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও কেন এই বিশাল স্থাপনাটি অলস পড়ে আছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিশ্বায়নের দৌড়ে বিমানবন্দরের ভূমিকা যে অপরিসীম, তা বলাই বাহুল্য। বলা হয়ে থাকে, শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, প্রতিবছর এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ লাইন, লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়া এবং অব্যবস্থাপনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বিশ্ব দরবারে বিমানবন্দরটির সুনাম কমছে বৈ বাড়ছে না। পরিকল্পনামাফিক থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে আরও ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ, প্রায় ২ কোটি যাত্রীর চাপ সামলানোর সক্ষমতা তৈরি হবে রাজধানীতে অবস্থিত দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের। আমরা মনে করি, এটি কেবল যাত্রীসেবাই বাড়াবে না, বরং সুনাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও নতুন গতির সঞ্চার করবে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এভিয়েশন খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে থমকে থাকা প্রকল্পের কাজ ১৯৭৭ সালে পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দ্রুততম সময়ে মাত্র তিন বছরে তা শেষ করে ১৯৮০ সালে তিনিই তৎকালীন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (পরবর্তীকালে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনালটি উদ্বোধন করেছিলেন সদ্য প্রয়াত ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীকালে তার সেই উন্নয়ন দর্শনকে আরও বেগবান করার সুযোগ ছিল এই তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের মাধ্যমে। কিন্তু তা হয়নি। সময়ের পরিক্রমায় আজ তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুততর সময়ে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরই সুযোগ্য পুত্র, যিনি আজ দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
তবে শুধু নির্দেশনাই যথেষ্ট নয়। আমরা মনে করি, এর জন্য প্রয়োজন কারিগরি ত্রুটি ও নেটওয়ার্ক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান। একটি আধুনিক বিমানবন্দরের মূল প্রাণ হচ্ছে তার স্বয়ংক্রিয় সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেহেতু টার্মিনালের কিছু অংশ ভাঙার মতো সুপারিশ রয়েছে, তাই নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস না করে দ্রুততম সময়ে সংস্কার কাজ শেষ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, থার্ড টার্মিনাল কেবল একটি ভবন নয়, এটি বাংলাদেশের সক্ষমতার এক নতুন প্রতীক। বৈশ্বিক পর্যটন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে এর কোনো বিকল্প নেই। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিশ্বমানে উন্নীত করার এখনই সময়। প্রধানমন্ত্রী যখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন, তখন সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বেবিচক এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এটাই প্রত্যাশা।
