জ্বালানি খাতে অরাজকতা
সুশাসন নিশ্চিতের বিকল্প নেই
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জ্বালানি খাত।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, তখন দেশের অভ্যন্তরে সরকারি রেশনিং নির্দেশনা অমান্য করে দ্বিগুণ তেল বিক্রি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তাপ শুরু হওয়ার পরপরই ১ মার্চ থেকে ডিপোগুলোতে অস্বাভাবিক হারে তেল উত্তোলন শুরু হয়। প্রকাশিত এমন তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং রাষ্ট্রীয় তেল বিতরণ কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক ভয়াবহ সংকটের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যেখানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ শতাংশ সাশ্রয়ের নির্দেশনা ছিল, সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মজুত খালি করার এই মহোৎসব কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বিচ্যুতি হতে পারে না।
আমরা মনে করি, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দৈনিক চাহিদা ১২ থেকে ১৫ হাজার টন, সেখানে কেন তা ২৬ হাজার টন ছাড়িয়ে গেল-তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ৪ মার্চ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা ও রেশনিংয়ের আদেশের পরও বিতরণ কোম্পানিগুলো যে বেপরোয়া আচরণ দেখিয়েছে, তা প্রকারান্তরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। প্রশ্ন জাগে, দেশের ডিজেল মজুত যখন দেড় লাখ টনের নিচে নেমে আসার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল, তখন কাদের স্বার্থে এই বাড়তি তেল বাজারে ছাড়া হলো? বৈঠকে কর্মকর্তাদের প্রতি জ্বালানি সচিবের ভর্ৎসনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ঠিকই; কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব কতটুকু? বিপিসির দুই পরিচালককে ওএসডি করা হয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও যথেষ্ট নয়। মূল অভিযোগের আঙুল যেখানে বিতরণ কোম্পানিগুলোর দিকে, সেখানে তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ভুলে গেলে চলবে না, জ্বালানি খাত একটি দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এ খাতকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত মুনাফা লোটার চেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। ফলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেবল বদলি বা ওএসডির মতো লঘুদণ্ড নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যের লুকোচুরি বন্ধে তেল উত্তোলন ও বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াকে কঠোর ডিজিটাল নজরদারিতে আনাও এখন সময়ের দাবি। জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে যারা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
