রাজধানীর পানি সংকট
ওয়াসা কী করছে?
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এখন চলছে শুষ্ক মৌসুম। গত কয়েক বছর ধরে এ সময়ে রাজধানীর বাসিন্দারা পানির সংকট মোকাবিলা করে আসছেন। এবারও ব্যতিক্রম কিছু নয়। পানির সংকট দেখা দিয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় এ সংকট তীব্র। সংকট মোকাবিলায় ঢাকা ওয়াসা ব্যর্থ হয়ে চলেছে। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, হাজার হাজার কোটি টাকা প্রকল্পের পেছনে খরচ করা হলেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না কেন?
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা পদ্মার পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। প্রকল্পটি চালু হওয়ার প্রায় ৭ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু এ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি উৎপাদিত হওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ কোটি। সমস্যাটা তাহলে কোথায়?
অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের যশলদিয়া পয়েন্ট থেকে ঢাকার মিটফোর্ড পর্যন্ত পাইপলাইনে ৪৫ কোটি লিটার পানি আনার সক্ষমতা থাকলেও ঢাকার ভেতরে পানি সরবরাহের কোনো পাইপলাইন নেই। ওদিকে মেঘনার পানি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে সমস্যা। ২০১২ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও সময় ও ব্যয় বাড়ানো সত্ত্বেও প্রকল্পটি শেষ করা যায়নি। এক বছর ধরে চুক্তির শর্ত নিয়ে ঝামেলা তৈরি হওয়ায় প্রকল্পটিতে ফিনিশিং টাচ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি পাওয়ার সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমস্যা।
সংকটের সুরাহা তাহলে কীভাবে হবে? নগরবাসীর তো পানি চাই। ঢাকা ওয়াসার এমডি বলছেন, প্রকল্পের চুক্তি, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে অনেক বিচ্যুতি ঘটেছে। তাই সুফল মিলছে না। নগরবাসী তো এ অজুহাত শুনতে নারাজ। বিচ্যুতিগুলো দূর করা হচ্ছে না কেন? সমস্যা কোথায়? সংকটটা তো নগরবাসীর মৌলিক জায়গায়।
শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৫ কোটি লিটারে। অথচ উৎপাদন হচ্ছে ২৮০ কোটি লিটার। অর্থাৎ ঘাটতি ৪৫ কোটি লিটার। এ ঘাটতি কীভাবে দূর করা যাবে, সেই দায়িত্ব ওয়াসা কর্তৃপক্ষের। জনগণের এখানে কিছু করার নেই। বলা হয়ে থাকে, পানির অপর নাম জীবন। অর্থাৎ পানির সংকট মানে তা জীবনের সংকট। এ সংকট থেকে রাজধানীবাসী মুক্তি পেতে চায় এবং তা জীবন বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে।
