Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

ঈদযাত্রার নিয়তি

মৃত্যুর এই ললাট লিখন কি অমোচনীয়?

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদযাত্রার নিয়তি

ফাইল ছবি

Advertisement

ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো যাত্রা ও ফিরতি যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির যে ব্যাপকতা, তা এবারও অভিন্ন ছিল। ব্যতিক্রম বলে কিছু নেই যেন আমাদের ঈদযাত্রার প্রাণহানির ঘটনায়। সড়ক-মহাসড়কগুলো এবারও রক্তাক্ত হয়েছে, এবারও আর্তচিৎকারে ভারী হয়েছে বাতাস। হিসাব করে দেখা গেছে, ঈদের আগে ও পরে মোট ১৩ দিনে (২১ মে থেকে ২ জুন) দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৯২টি এবং এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৮১ মানবসন্তান। আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। নিহতের মধ্যে রয়েছে ৩৪ নারী ও ৪৮ শিশু। গড় করলে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে মারা গেছেন ২২ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী আরও জানা গেছে, নিহতদের ৪৪ শতাংশই মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী।

এই যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, এই নিয়তি থেকে আমরা কবে পরিত্রাণ পাব, কেউ জানে না। এ যেন এক অমোচনীয় ললাট লিখন। আমরা সবাই দুর্ঘটনার কারণ জানি এবং এসব কারণ দূর করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। তারপরও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এবার ঈদযাত্রার দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এভাবে : ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়ারা গতি, চালকের অদক্ষতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালনা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এসব কারণের কথা পত্রপত্রিকা, সেমিনারে পুনঃপুন উচ্চারিত হয়েছে অতীতে। কোনো কাজই হচ্ছে না। বোঝাই যাচ্ছে, কথাগুলো আন্তরিকভাবে কেউ গ্রহণ করছে না। ব্যাপারটা এমন, ‘বলাইয়া বলে যাচ্ছে, শোনাইয়া শুনে যাচ্ছে।’ আমাদের স্পষ্ট কথা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শগুলো শুনতে হবে। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করতে হবে, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে, দক্ষ চালক বৃদ্ধি করতে হবে, মহাসড়কে সার্ভিস রোড থাকতে হবে, রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক গেটকিপার থাকতে হবে। এক কথায়, একটি সমন্বিত পরিবহণ পরিকল্পনা থাকতে হবে। আমাদের কথা, যে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব, তা ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হবে না কেন? সরকার এবং পরিবহণসংক্রান্ত সংগঠনগুলো আন্তরিক ইচ্ছা প্রকাশ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম