উচ্চ করের বোঝা
মন্দা এড়াতে চাই ব্যবসাবান্ধব রোডম্যাপ
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠন এবং তরুণ ও নারীদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
কিন্তু এই বক্তব্যের আড়ালে দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যে রূঢ় ও করুণ বাস্তবতার চিত্র বৃহস্পতিবার যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় উচ্চ কর কাঠামো, নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ আজ খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে।
বর্তমান সংকটের জন্য অতীতের ভ্রান্ত নীতি বহুলাংশে দায়ী হলেও চলমান খরা কাটিয়ে উঠতে এই বাজেটেই কার্যকর ও সাহসী রোডম্যাপের প্রতিফলন দেখতে চায় দেশের ব্যবসায়ী সমাজ।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট অভিমত, পণ্যের কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বিপণনের প্রতিটি ধাপে উচ্চ করের যে বিপুল বোঝা চেপে বসেছে, তা কোনোভাবেই ব্যবসাবান্ধব নয়। এত বিশাল করের বোঝা কাঁধে নিয়ে দেশি বা বিদেশি কোনো বিনিয়োগকারীর পক্ষেই সৎভাবে ব্যবসা করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।
এছাড়া জ্বালানি সংকট ও চড়া সুদের হারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাস্টমস, বন্দর ও আয়কর বিভাগের হয়রানি ও দুর্নীতি। আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমসের নিজস্ব মনগড়া ডেটাবেজ ভ্যালু অনুযায়ী শুল্কায়ন এবং আপিল ব্যবস্থায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের একচেটিয়া আধিপত্য ব্যবসায়িক খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে। বন্ধ কারখানা চালুর জন্য সরকারের ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ ভালো হলেও সুদের হারের অসমতা এবং উচ্চ করের কাঠামোগত সংস্কার না করে কেবল ঋণ সুবিধা দিয়ে শিল্প টিকিয়ে রাখা যাবে না।
সরকার যদি সত্যিই ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখে এবং বেসরকারি খাতকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি করতে চায়, তাহলে করনীতিকে শোষণমূলক আচরণ থেকে মুক্ত করে ব্যবসাবান্ধব করতে হবে।
একইসঙ্গে প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক হয়রানি এবং কর্মকর্তাদের কেবল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মানসিকতা পরিবর্তন করাও জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, বিনিয়োগ সচল রাখতে হলে করপোরেট কর এবং ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিকল্প নেই। সরকার এ বাজেটেই ব্যবসাবান্ধব রোডম্যাপ তৈরি ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
