ধীরগতির রেল
দ্রুতগামী হবে কবে?
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রেলপথ। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের রেলপথ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত রেলের সেবাদান বিঘ্নিত হয়ে চলেছে বহুকাল ধরে। অথচ রেলকে একটি সাশ্রয়ী ও ঝুঁকিমুক্ত গণপরিবহণ হিসাবে ধরা হয়। দূরযাত্রায় গরিব শ্রেণির মানুষ বেছে নেন রেলকেই।
রেলের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এর ধীরগতি। প্রথমত, শিডিউল মেনে ট্রেন চালানোর যে ইতিহাস, তা এখন ছেঁড়াপাতা। শিডিউল বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ট্রেনের গতি এখন ৬৫ কিলোমিটারের এদিক-সেদিক। সারা দেশের বিভিন্ন রুটের চলন্ত ট্রেন পর্যবেক্ষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একটা উদাহরণ দেওয়া হলে ট্রেনের ধীরগতি এবং এ থেকে উদ্ভূত সমস্যা বোঝা যাবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪৮০ কিলোমিটার। এ যাত্রায় সময় লাগার কথা ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। অথচ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতেই সময় লাগছে প্রায় ৯ ঘণ্টা। ট্রেনের এ শিডিউল বিপর্যয় যাত্রীদের শিডিউলেরও সমস্যা তৈরি করছে। দীর্ঘ সময়ের বিরক্তি ও দুর্ভোগ তো আছেই। ট্রেন ছাড়ার সময়েরও কোনো ঠিক নেই। বিলম্বিত যাত্রা শুরু এখন এক অলিখিত নিয়ম। যাত্রীসেবা কিংবা যাত্রী সুরক্ষার কোনো বালাই নেই। কোনো এক সময় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, এটাই যেন রেল কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টির জায়গা।
অথচ রেলপথ এবং ইঞ্জিন-কোচ সংস্কারের জন্য খরচ করা হয়েছে এবং হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। বড় সংস্কারগুলো দূরের কথা, লেভেল ক্রসিং সংস্কার এবং অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করা যাচ্ছে না। এক কথায়, যাত্রীদের সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া, যাত্রীদের সেবা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা-এ তিন প্রধান কাজের কোনোটাই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয় এখন। আমাদের কথা হলো, বরাদ্দকৃত টাকাগুলো কোথায় যায়? তবে কি এটা ধরে নিতে হবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে কারও কোনো সমস্যা নেই? সেই যে পুরোনো কথা, সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল, এটাই সত্য? রেলসেবার নিম্নমানের কথা ভেবে অনেকেই রেলকে প্রাইভেট সেক্টরের কাছে হস্তান্তরের কথা বলেন। তাদের এ কথায় সারবত্তা আছে। প্রত্যাশিত সেবাই যদি পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে সরকারি মালিকানার অর্থ কী? অতঃপর উপসংহার টানতেই হয়, রেলকে মানবসেবার উপযোগী পরিবহণ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করুন। না হয় এটাকে দিয়ে দিন বেসরকারি খাতে।
