Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

ঐতিহাসিক ডারউইন ট্রায়াম্ফ

টাইগারদের এ জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঐতিহাসিক ডারউইন ট্রায়াম্ফ

অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সের দুর্ভেদ্য প্রান্তর বিশ্ব ক্রিকেটে ক্যাঙ্গারু ডেরা হিসাবে পরিচিত। সেই ডেরায় টেস্ট বা ওয়ানডে ম্যাচে ক্যাঙ্গারু বাহিনীকে তাদেরই ঘরের মাঠে পরাস্ত করা, তাও আবার ৯ উইকেটে, বরাবরই যে কোনো দেশের ক্রিকেট দলের জন্যই বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু ডারউইনের মারারা ওভালে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছে, তা বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের ক্রিকেটীয় স্বাতন্ত্র্যের এক বলিষ্ঠ রূপ প্রকাশ করল। এই স্মরণীয় সাফল্য যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় এক নতুন রূপান্তরের মহাকাব্য রচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।

বিগত কয়েক দশক ধরে ঘরের মাঠ অর্থাৎ শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের স্পিন ফ্রেন্ডলি বা ধীরগতির উইকেটে জয় তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়ে টাইগারদের বিস্তর সমালোচনা সইতে হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান যুক্তি ছিল-হোম অ্যাডভান্টেজ বা ঘরের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সাফল্য পাওয়া গেলেও বিদেশের মাটি, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার তীব্র গতি ও বাউন্সের উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বরাবরই অসহায়। কিন্তু এ অবিস্মরণীয় জয় সেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ও অপবাদকে এক ঝটকায় ধুয়ে-মুছে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গতিশীল উইকেটে অসি পেস অ্যাটাককে প্রতিহত করে টেস্ট ম্যাচে টাইগারদের প্রথমবারের মতো জয়ের নোঙরে পৌঁছানো প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ক্রিকেট কেবল নিজেদের আঙিনায় পরাক্রমশালী নয়, বরং বিশ্ব মানচিত্রের যে কোনো প্রান্তরে এখন প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে দলের আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীক মানসিকতা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী দলগুলোকে মানসিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার যে মাইন্ড গেম স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও দর্শকরা খেলে থাকে, আমাদের তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা তা অত্যন্ত পরিণত বুদ্ধিমত্তায় মোকাবিলা করেছেন। টস থেকে শুরু করে শেষ বলের নিখুঁত বাস্তবায়ন-প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল সুস্পষ্ট কৌশলের ছাপ। ওপেনারদের দৃঢ়তা, মিডল অর্ডারের ধৈর্য এবং পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং অসি ব্যাটারদের ক্রিজে থিতু হতে দেয়নি। বিশেষ করে, টাইগারদের যে পেস ইউনিটকে একসময় দুর্বল ভাবা হতো, সেই পেসারদেরই সুনির্দিষ্ট লাইন ও লেংথের বোলিংয়ে অসি ব্যাটিং লাইনআপ চুরমার হয়ে যেতে আমরা দেখলাম। বলতেই হবে, এটি দেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের জন্য এক আশাব্যঞ্জক চিত্রই তুলে ধরে।

তবে এই অবিস্মরণীয় জয়কে কেবল উদ্যাপনের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখলেই চলবে না। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নীতিনির্ধারকদের তীক্ষ্ণ নজর দিতে হবে। আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্রিকেট কাঠামোয় থাকা দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতাগুলোকে দূর করে, বিশেষ করে ঘরোয়া উইকেটে পেস-সহায়ক পিচ তৈরি করা, পাইপলাইনে মানসম্মত পেসার ও রিভার্স সুইং সামলাতে পারা ব্যাটার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিকমানের পরিকাঠামো নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই ঐতিহাসিক বিজয় বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের এক সোনালি বাস্তবায়ন। যুগান্তরের পক্ষ থেকে টাইগারদের অভিনন্দন। এই ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্তটিকে চালিকাশক্তি বানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট সামনে আরও বহু দূর এগিয়ে যাবে-এটাই প্রত্যাশা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .