শিল্পের গ্যাস বিদ্যুতে
অর্থনীতির অগ্রাধিকার অনুধাবন করতে হবে
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিল্প খাতের চাকা সচল রাখা যে কোনো দেশের অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে নীতিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তিকেই মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শুক্রবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-গ্যাস সংকটে দেশের শত শত শিল্পকারখানা বন্ধের উপক্রম হলেও লোডশেডিং সামাল দিতে শিল্প খাতের বরাদ্দ থেকে ২০-২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া হয়েছে। একটি সচল শিল্প খাতকে শ্বাসরুদ্ধ করে বিদ্যুৎ খাতের সাময়িক ঘাটতি মেটানোর এই নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
যেখানে সারা দেশের শিল্প উৎপাদন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস নয়, আমাদের সামনে ফার্নেস অয়েলের মতো বিকল্প পথ খোলা ছিল। এতে শিল্পের জন্য জরুরি গ্যাসের বরাদ্দ কমানোর কোনো প্রয়োজনই হতো না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারখানা বন্ধ হলে রপ্তানি আয় কমবে, বেকারত্ব বাড়বে এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমবে-যার মোট আর্থিক ক্ষতি বহুগুণ বেশি। ফলে সাময়িক আর্থিক সাশ্রয়ের নামে শিল্প খাতকে অকার্যকর করে ফেলা মূলত দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে বহুগুণ বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।
আমরা মনে করি, এই সংকটকালে সরকারের নীতিপ্রণেতাদের বাস্তববাদী ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্প খাতের বরাদ্দ কমিয়ে নয়, বরং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করার দিকে নজর দিতে হবে। মাতারবাড়ী ও পায়রায় প্রস্তাবিত ভাসমান টার্মিনাল ও এফএসআরইউ বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি এলএনজি আমদানির জন্য বৈচিত্র্যময় উৎস সন্ধানের কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। পাশাপাশি দেখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনার যে কথা বলা হচ্ছে, তা যেন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে। মনে রাখতে হবে, বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়তো সাময়িকভাবে কষ্টকর; কিন্তু শিল্পকারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে দেশে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া সহজ হবে না। দূরদর্শী পরিকল্পনা, বিকল্প জ্বালানির সঠিক ব্যবহার এবং শিল্পস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে সরকার বর্তমান এ সংকট থেকে দেশকে বের করে আনবে-এটাই প্রত্যাশা।
