Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন

তিনি হয়ে উঠুন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক

Icon

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বৃহস্পতিবার ছিল এ দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে এক শুভসুন্দর দিন। এদিন দেশের এক অনন্যসাধারণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ-সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে তিনি ৩৪৩টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, অর্থাৎ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন যখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন, তখন জাতীয় সংসদ ভবনে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির হাতে একটি লাল গোলাপ তুলে দেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজ আসন ছেড়ে তার সঙ্গে কোলাকুলি করে অভিনন্দন জানান। পারস্পরিক সৌহার্দের এই গণতন্ত্র উপভোগ করার মতো দৃশ্য। এ পর্যায়ে আমরাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

গতকাল সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ক্লিন ইমেজের একজন রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে মনোনয়নদানকারী বিএনপিরই বিজয় হয়নি শুধু, বস্তুত এ বিজয় সমগ্র জাতির। একটি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি অনেকটা রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের (আমাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি) ওপর নির্ভর করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও উন্নত হবে। প্রকৃতপক্ষে, তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য যোগ্য হয়ে উঠেছিলেন। শিক্ষকতা ছেড়ে যখন রাজনীতিতে এসেছিলেন, তখন থেকেই তার উন্নত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, চারিত্রিক শুভ্রতা ও মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব সবাইকে আকর্ষণ করা শুরু করে। তার রয়েছে একটি সংগ্রামী জীবনও। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তার নিরলস সংগ্রাম ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে। তার অদম্য সাহসিকতা এবং একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক চেতনা সাধারণ মানুষকেও অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উৎসাহিত করেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশাও বেড়েছে। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত বটে, কিন্তু তিনি হয়ে উঠতে পারেন দার্শনিক গাইড। উপরন্তু, রাষ্ট্র যদি কখনো গভীর সংকটে পড়ে, সেই সময়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন বৈকি। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি হয়ে উঠতে পারেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। প্রয়োজন পড়লে সংকটকালে তিনি সংকট উত্তরণে ভূমিকাও রাখতে পারেন। এক কথায়, তিনি হয়ে উঠতে পারেন দেশের এক নির্ভরযোগ্য অভিভাবক।

আমরা ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারায় বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে এক অনুকরণীয় আদর্শ হিসাবে দেখছি। রাজনীতিক হিসাবে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। রাষ্ট্রপতি হিসাবেও তার আগামী জীবনপ্রবাহ জাতির আদর্শ হয়ে থাকবে, এই প্রত্যাশা। তাকে পুনর্বার অভিনন্দন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .