শিশুদের আনন্দ ফিরিয়ে আনুন
জিয়া শিশুপার্ক দ্রুত খুলতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগের ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’ সংস্কার ও আধুনিকায়নের অজুহাতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। শহীদ জিয়ার নামটি থাকায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে এটি। ফলে একসময়ের সর্বজনীন ও প্রাণবন্ত এ পার্কটি আজ নিথর ও নিষ্প্রাণ। বহু প্রজন্মকে স্বল্প খরচে নির্মল আনন্দ দেওয়া এই বিনোদনকেন্দ্রটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ থাকা দুঃখজনক।
১৯৭৯ সালে স্থাপিত প্রায় ১৫ একর আয়তনের এই শিশুপার্কটি ছিল ঢাকার সব শ্রেণির শিশুদের সাশ্রয়ী আনন্দকেন্দ্র। কিন্তু ২০১৮ সালে উন্নয়নের অজুহাত দেখিয়ে পার্কটির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিগত বছরগুলোতে নগর সংস্থার মেয়র ও প্রশাসকদের রদবদল ঘটেছে, এমনকি পার্কটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে দু-দুবার, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে-কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার বর্ধিত প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন নতুন রাইড কেনা ও স্থাপন করার কথা থাকলেও এখনো এর বেশির ভাগ কাজ বাকি। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে, গত দুই বছরেও কেন পার্কটির কাজ আরও দ্রুততার সঙ্গে শেষ হলো না?
শাহবাগের অন্যসব নাগরিক সুবিধা বা কার্যক্রম সচল থাকলেও হারিয়ে গেছে শিশুদের সেই হৈহুল্লোড় আর কোলাহল। রাইডগুলোর জায়গায় বসেছে ভূগর্ভস্থ পার্কিং, আর পার্কের আশপাশে গড়ে উঠেছে টং দোকান। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সামাজিকীকরণে খেলাধুলা ও পার্কের কোনো বিকল্প নেই। অথচ ইট-কাঠের এই তিলোত্তমা নগরীতে শিশুদের উন্মুক্ত স্থানের এমনিতেই তীব্র অভাব, তার ওপর শাহবাগের মতো স্থানে একটি কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক বন্ধ রাখা অপরাধমূলক ব্যর্থতার শামিল।
আমরা মনে করি, রাইড কেনা বা দরপত্রের আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে আর সময়ক্ষেপণ করা উচিত নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে পার্কটির আধুনিকায়ন ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। শিশুপার্কটির কোলাহলমুখর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা মানে শুধু একটি পার্ক চালু করা নয়, বরং শিশুদের শৈশবকে রক্ষা করা। নগর কর্তৃপক্ষকে এখনই জবাবদিহি করতে হবে এবং প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে পার্ক খুলে দিতে হবে।
